মালদার দশ মাথার মহাকালী পূজো হয় চতুর্দশীতে! জানুন বিস্তারিত

8

মালদা, ৩ নভেম্বর: অমাবস্যা নয় মালদার দশ মাথার মহাকালী পূজো হয় চতুর্দশীতে। পুজোর আগে দশমাতা মহাকালিকে নিয়ে শোভাযাত্রা হয়। যা দীর্ঘদিনের প্রথা। সেই শোভাযাত্রা দেখার জন্য সাত সকাল থেকেই রাস্তায় এবং বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করেন বহু মানুষেরা। চতুর্দশী সকালে প্রতিমা নিয়ে আসাকে ঘিরে ব্যাপক উদ্দীপনা থাকে ক্লাব সদস্য এবং ভক্তদের মধ্যে। কিন্তু করোনা সংক্রমনের জন্য গত বছর থেকে মহাকালীর মূর্তি শোভাযাত্রা বন্ধ রাখা হয়ে গিয়েছে। বুধবার সকালে মালদা শহরের ফুলবাড়ী কুমোরপাড়া থেকে গঙ্গাবাগে মন্দিরে নিয়ে আসা হয় দশমাথার মহাকালি। কাটছাট করে করোনাবিধি মেনে হয় শোভাযাত্রা।

মালদা শহরের ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ইংরেজবাজার ব্যায়াম সমিতি ক্লাবের উদ্যোগে দশমাথার মহাকালি পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এই কালীতে নেই শিব। ১০ মাথা, ১০ হাত ও ১০ টি পা যুক্ত মহাকালী পুজো ৯২ তম বর্ষৈ পদাপন করল। প্রতিমা তৈরি করছেন মৃৎশিল্পী অষ্টম পাল। করোণা সংক্রমণের জেরেই মহাকালীর পূজাকে ঘিরে কোন রকম সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবারে করা হচ্ছে না। তবে চতুর্দশীর নিয়ম মেনেই তন্ত্র মতে এই মহাকালী পুজো চর্তুদশিতে পূজিত হয়।

স্থানীয় প্রবীনদের কথায়, কালীপুজোর দিন নয় চতুর্দশীতে পূজিত হন মালদার দশমাথার মহাকালী মূর্তি । পূজায় পাঁঠা বলি দেওয়ার রীতি রয়েছে। মহাকালির পুজোকে ঘিরে অনেক গল্প শোনা যায়। এটি পঞ্চমুন্ডির থান। ব্রিটিশ অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে এলাকার একদল যুবক শক্তি যোগাতে তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে মায়ের আরাধনা শুরু করেন। আবার কেউ কেউ বলেন এই এলাকায় এক সময় পুকুর ও জঙ্গলে ভর্তি ছিল। ডাকাতদের হাত থেকে রেহাই পেতে সেখানকার বণিকেরা এই পুজো শুরু করেছিলেন। তবে বর্তমানে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের সদস্যরা ধুমধাম করে দশমাথার মহাকালী পূজোর পরিচালনা করে আসছেন।