জেনে নিন আপনার সুস্থতা লুকিয়ে আছে কোন অভ্যাসে

216
জেনে নিন আপনার সুস্থতা লুকিয়ে আছে কোন অভ্যাসে

সকালবেলা উঠে ফলের রস দিয়ে দিনের শুরু, কখনো বা ফাস্টফুডের বাহার, কখনো সারাদিন পেটে কিচ্ছুটি পরে না। দৈনন্দিন ব্যস্ততার জীবনে খাবারের এইরকম অভ্যেস গুলি খুবই স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে কিন্তু এর ভবিষ্যত ভয়ংকর। খাবারের অভ্যাসের এইসমস্ত অস্বাভাবিকতা ছাপ ফেলে স্বাভাবিক জীবনধারার গতি বদলায় । এইধরনের ‘ইটিং ডিসঅডারের’ গ্রাসে পড়ে আজকাল টিন এজারদের জীবনের ভিত হয়ে পড়ছে নড়বড়ে ।

এবার প্রশ্ন এই ‘ইটিং ডিসঅডার’ কি? সুস্থ জীবনের জন্য প্রয়োজন নিয়মিত পরিমিত খাদ্যাভ্যাস। কখনো সকাল থেকে কিচ্ছু না খেয়ে থাকা আবার মুঠো মুঠো খাওয়া, কোনোটাই সুস্থ জীবনের জন্য উপযুক্ত নয়। একদম না খাওয়া আবার অতিরিক্ত খাওয়া দুটোই ‘ইটিং ডিসঅডারের’ মধ্যে পড়ে।

ট্রেন্ডের যুগে ওজন কমানোর জন্য অনেকেই না খেয়ে ওজন কমানোর পন্থা অবলম্বন করে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এইধরনের ক্রাশ ডায়েটও ‘ইটিং ডিস অডারের’ লক্ষণ।

টিন এজ সন্তানের ওজন অস্বাভাবিক ভাবে বাড়া-কমা করতে থাকলে নজর দেওয়া জরুরি। খাবার খাওয়া বা না খাওয়ার থেকেও বেশী চিন্তার বিষয় আপনার সন্তান যদি দিনের বেশিরভাগ সময় ঝিমিয়ে থাকে। মেয়েদের ক্ষেত্রে পিরিয়ডের সময় মুড সুইং হওয়া স্বাভাবিক তবে তার জন্য খাবার একদম না খাওয়া বা বেশী বেশী খাওয়া ‘ইটিং ডিসঅডারের’ লক্ষণ ।

‘ইটিং ডিসঅডারের’ ক্ষেত্রে গোড়াতেই রয়েছে গলদ। ‘ইটিং ডিসঅডার এবং ‘স্লিপ ডিসঅডার’ একে অপরের পরিপূরক। দেরী করে ঘুমোনোর জন্য ঘুম ভাঙছেও দেরীতে এবং সকালের শুরুতেই ভারী ব্রেকফাস্ট করার ইচ্ছে বা সময় কোনোটিই থাকছে না।আর বাড়িতে বানানো খাবারের তুলনায় ঝোঁক বাড়ছে পিৎজা, বার্গারের দিকে যা ডেকে আনছে জীবনে ঘোর অন্ধকার।

ক্ষতিকর প্রভাব গুলি নিম্নরূপ-

** প্যাকেটজাত খাবার খেতে ভালো লাগলেও তা কি প্রভাব ফেলে সেটা আমরা ভাবি না। ‘ইটিং ডিসঅডারের’ ফলে শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ওবেসিটির মতো ভয়ংকর রোগ।
** অনেক ছোটো বয়স থেকেই গ্যাসট্রিক, অ্যাসিডিটির কবলে পড়তে হয় ‘ইটিং ডিসঅডারের’ কারণে।
** অনিয়মিত খাবারচর্চা ডেকে আনে নানা হরমোনের সমস্যা
**হতাশা, অবসাদ বা স্ট্রেস বাড়ার সঙ্গেও সম্পর্ক রয়েছে ‘ইটিং ডিসঅডারের’ ।

কী করা উচিত?

## বাচ্চার পছন্দ অপছন্দকে বেশী গুরুত্ব না দিয়ে ছোটো থেকেই আপনার সন্তানকে সব ধরনের শাক-সবজি, আনাজপাতি খাওয়ানোর অভ্যেস করান।

##সন্তান কে তার নিজের ক্ষতিটা বোঝান। তাতে ফলাফল কিছুটা হলেও ধনাত্মক হবে।

##বাড়িতে সকলে মিলে শরীরচর্চা, সুস্থ জীবনযাপনের ধারা তৈরী করুন যেন সুস্থ জীবনযাপন আপনার সন্তানের অভ্যেসে পরিণত হয়।

##ডায়েট মানেই না খেয়ে থাকা নয়, সঠিক ডায়েটের অর্থ বোঝান সন্তানকে।

##বাইরের খাবারের বদলে বাড়িতে বানিয়ে ফেলুন মুখরোচক খাবার।

##স্ন্যাকস্ মানেই ভাজাভুজি যে নয় সেটা বুঝিয়ে ফল, শুকনো বাদাম খাওয়ার অভ্যেস করান।

‘ইটিং ডিসঅডার’ আগামী প্রজন্মকে ধীরে ধীরে গ্রাস করে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তাই সন্তানের স্বার্থে অভিভাবকদের এগিয়ে আসা উচিত।