প্রচুর আয় ড্রাগন ফল চাষে, জানুন চাষের পদ্ধতি

14
প্রচুর আয় ড্রাগন ফল চাষে, জানুন চাষের পদ্ধতি

ড্রাগন ফলে রয়েছে অনেক বেশি ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন সি রয়েছে। এন্টিঅক্সিডেন্ট সুতরাং শরীরের পক্ষে এটি অতি পুষ্টিকর। যাদের ডায়াবেটিস রোগ রয়েছে তাদের পক্ষে এই ফল বেশ উপকারী, ড্রাগন ফল চাষ করলে, বেশ লাভবান হওয়া যায় এই কথাটি বলেছেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি আবহাওয়া এবং পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শাওন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং এক গবেষক দোলগোবিন্দ পাল।

ড্রাগন ফল নাকি যাদের হাঁপানি অথবা সর্দি-কাশি রোগ, ক্যান্সার হয়েছে এবং হজমের সমস্যা আছে তাদের পক্ষে বেশ কার্যকরী। এই ধরনের ফল চাষ করা হয় অম্ল এবং ক্ষারকের মাটি ছাড়া সকল মাটিতেই। এই ফল চাষ করার ক্ষেত্রে সবথেকে আদর্শ মাটি হল বেলে এবং দোআঁশ মাটি এই ফলগুলি মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার। এই ফল চাষ করার জন্য বছরে ৫০০ থেকে ১০০০ মিলিমিটার বৃষ্টি দরকার।

বেশি বৃষ্টি হয় তাহলে এই গাছ নষ্ট হয়ে যায় গাছের গোড়ায় জল না জমে সেইজন্যে সুনিশ্চিত ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। এ ধরনের ফলগুলির নরম কান্ড। সেই জন্যেই বলি কিছুর ওপর ভর করেই বেড়ে ওঠে। ড্রাগন ফল চাষ করা হয় অঙ্গজ পদ্ধতিতে। প্রত্যেক চারাতে ১৫ দিন অন্তর করে করে জৈব সার দিতে হবে ৫০০ গ্রাম এবং তার সঙ্গে দিতে হবে এক মুঠো হাড় গুড়ো যার সঙ্গে ৫০ গ্রাম দিতে হবে সিঙ্গেল সুপার ফসফেট।

ওই চারাগুলি বসিয়ে সেগুলি কোন কিছুর সঙ্গে বেঁধে দিতে হবে যাতে সেগুলি ঝুঁকে না পরে। যত চারা গাছগুলির বয়স বাড়বে তত সেখানে বেশি সার দিতে হবে। গাছগুলি যখন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে যাবে সেই সময় গোবর সার প্রায় ১০ কেজি দিতে হবে এবং ইউরিয়া প্রায় ২৫ কেজি।

গ্রীষ্ম কালে প্রায় পাঁচ দিন অন্তর অন্তর সেচ করা হয় এবং শীতের সময় সাত অথবা নয় দিন অন্তর অন্তর সেচ করতে হয়। এই গাছে সেরকম ভাবে কোন পোকা হয় না। যদি পোকা হয় তাহলে ঐ ফলের কোনরকম বেশি ক্ষতি করতে পারে না। এই গাছের রোগ হয় শুধুমাত্র কান্ড এবং ফলে। গাছে যাতে এই ধরনের রোগ না হয় সেই জন্যেই ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন রাসায়নিক স্প্রে, যার ফলে গাছের রোগ ধরতে পারেনা।

এই ফল চাষে অতিরিক্ত টাকা উপার্জন করা যায় কিন্তু পরিশ্রম তাতে খুব কমই লাগে। ১ কেজি ড্রাগন ফলের প্রায় বাজারে দাম হয় ৪০০ থেকে ৫০০। ড্রাগন ফলের বাগানে অন্যান্য ফুল, সবজিও অনেক সময় চাষ করা যায় যার ফলে আরো বেশী পরিমানে আয় হয়।