মধ্যবিত্তের জীবন পালটে দিল লকডাউন

65
মধ্যবিত্তের জীবন পালটে দিল লকডাউন

করোনা মোকাবিলার জন্য গোটা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। ৩ মে পর্যন্ত লকডাউন বাড়িয়ে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার। খুব প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বের হওয়া নিষেধ। লকডাউনের জেরে ভারতে এই প্রথমবারের মতো মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত শ্রেণি পুরো এক মাস গৃহপরিচারিকার সাহায্য ছাড়াই সংসার চালাতে বাধ্য হয়েছেন। দিল্লি এবং তার আশেপাশের নানা বয়সী নারীরা বলেছেন, আগে কষ্ট হলেও তারা এখন এই কাজের লোকবিহীন জীবনেই বেশ অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন। পরিবারের সবাই কাজ করার জন্য হাত লাগাচ্ছেন। দিল্লির একটি বহুতল ভবনের বাসিন্দা ঋতুপর্ণা চ্যাটার্জি বলেছেন, লকডাউন শুরু হওয়ার সময় মাথায় বাজ পড়েছিল।

এত কিছু কীভাবে ম্যানেজ করবেন, কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। তিনি আরও বলেন, তাঁর সঙ্গে বৃদ্ধ বাবা-মা থাকেন, স্বামী এই মুহূর্তে কোয়ারেন্টিনে, একটা অল্প বয়সের ছেলে আছে। তাদের একেকজনের একেক রকম রান্না করতে হয়। বাজারহাট এবং তার উপর রয়েছে অফিসের কাজ। আগে কোনও দিন যেহেতু সবকিছু এভাবে একা একা করতে হয়নি, তাই আরও অসহায় লাগছিল বলে জানান তিনি। পাশাপাশি তিনি বলেন, এখনও অসুবিধা নিশ্চয় হচ্ছে। কিন্তু এক মাস পরে এসে এই নতুন জীবনটাই যেন রুটিন হয়ে গেছে।

গুরুগাঁওতে মেয়ে এবং জামাইকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন বছর সত্তরের কেয়া দে। তাঁর কথায়, বাড়ির সবাই হাত লাগানোতে এখন রোজকার কাজগুলো আর তত কঠিন মনে হচ্ছে না। বাড়ির সবাই মিলে কাজ করছেন বলেই কাজগুলো ঠিক হয়ে যাচ্ছে। ওরা অনলাইনে কাজ করছে এবং তার ফাঁকেই যে যখন পারছে এসে হাত লাগাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, নিজেরা কাজ করলে খুব তাড়াতাড়ি হয়, পরিষ্কারও থাকে সবকিছু। আবার কারও সঙ্গে কোনও খিটমিটও হয় না। তবে গৃহকর্মীদের বেতন নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বামপন্থী শ্রমিক নেত্রী এবং সাবেক এমপি বৃন্দা কারাট বিবিসিকে বলেন, দিল্লির বহু সচ্ছল পরিবারেও ছবিটা কিন্তু একেবারেই উল্টো।

বৃন্দা কারাট বলেন, তাঁরা ডোমেস্টিক ওয়ার্কারদের মাইনেই দিচ্ছে না। গতকালই দিল্লির জমরুদপুর ব্লকে গিয়ে সেটার প্রমাণ পেয়েছেন বলে জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, সেখানে মূলত ইউপি, বিহার থেকে আসা নারীরা লাজপাত নগরের মিডল ক্লাস ফ্যামিলিগুলোতে গৃহকর্মীর কাজ করেন। কিন্তু মাইনে চেয়ে যোগাযোগ করতে গেলে তাদের মালিকরা কথাই বলছে না, ফোন পর্যন্ত ধরছে না। কিছু বাড়ি নিশ্চয় পুরো টাকা মিটিয়ে দেবেন, কিন্তু গৃহকর্মীদের নিয়ে কাজ করার সুবাদে যত কেস এসেছে, তার বেশিরভাগ টাকা দিতে রাজি না। এই ফলে দিল্লি ও তার আশেপাশের বেশির ভাগ গৃহকর্মীই কিন্তু খুব কঠিন সঙ্কটে আছেন।