লকডাউনে দোকানের শাটার ভেঙে চুরি গেল লক্ষাধিক টাকার দেশি এবং বিদেশি মদ

10
লকডাউনে দোকানের শাটার ভেঙে চুরি গেল লক্ষাধিক টাকার দেশি এবং বিদেশি মদ

গতকাল থেকেই চারিদিকে সুনসান। রাস্তার লোকজনের আনাগোনা খুবই কম। তার মধ্যেই মদের দোকানের শাটার ভেঙে দিয়ে লক্ষাধিক টাকার দেশি এবং বিদেশি মদ চুরি হয়ে গেল। শনিবার লকডাউন শুরু হবার আগেই এই কাণ্ডটি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ এবং স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গিয়েছে যে, গাজোল ব্লকের মজহার অঞ্চলের হাটের কাছে একটি পানশালায় আছে। ওই দোকানের মালিক হলেন আশিক প্রসাদ।

রবিবার সকালে লকডাউন চলাকালীন পতিরাজপুর এলাকার বাসিন্দা তারাপদ রায় বাজারে যাবার সময় দেখতে পান যে, মদের দোকানের শাটার ভাঙ্গা হয়েছে। সন্দেহ হতে তিনি তাড়াতাড়ি দোকানের মালিক কে ফোন করেন এবং গোটা ঘটনাটি জানান। ঘটনাস্থলে পৌঁছে দোকানের মালিক দেখেন যে সমস্ত জিনিসপত্র ভাঙ্গা হয়েছে এবং তার সঙ্গে ভাঙ্গা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা গুলি।

গাজোল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি বিধান রায় কে সমস্ত ঘটনা জানানো হয়। গাজোল থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে সমস্ত বিষয়টি খতিয়ে দেখে। দোকানের মালিকের বাড়ি গজল শহরে। প্রতিদিনের মতো শনিবার রাতে সাতটা নাগাদ দোকান বন্ধ করে তিনি বাড়ি চলে যান। তার বয়ান অনুযায়ী তার দোকানে প্রায় কুড়ি থেকে ২৫ লক্ষ টাকার মদ ছিল। এর আগেও একই এলাকায় নির্মাণ বর্মনের মুদির দোকানে চুরি হয়েছিল কিছুদিন আগে। পরপর এইভাবে চুরির ঘটনা দেখে রীতিমতো ভীত হয়েছেন এলাকাবাসী। লকডাউন শুরু হতে না হতেই চুরির ঘটনা নিয়ে পুলিশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে যান ব্যবসায়ীরা।

গাজোল ব্যবসা সমিতির সভাপতি বিধান রায় জানান যে, বারবার চুরির ঘটনা এই ভাবে মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে তদন্ত করে চোরকে গ্রেফতার করে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। একদিকে আমরা লকডাউনে খেতে পারছি না অন্যদিকে লক্ষ টাকার জিনিস চুরি হয়ে যাচ্ছে, এটা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যবস্থা না নিলে আমরা আন্দোলন করতে বাধ্য হব।

এদিকে রবিবার সকাল থেকেই মালদা শহরের রথবাড়ি বাজার, সদরঘাট বাজার, ঝলঝলিয়া বাজারে দেখতে পাওয়া গেল প্রচুর ভিড়। বাঙালি যেন বাজার করতে এসে আর বাড়ি ফিরতে চাইছে না। নির্দিষ্ট সময়ের পর অনেক দোকান বাজার খোলা রাখতে দেখা গেল। বাজার বন্ধ করতে রীতিমতো আসলে নামতে হলো ইংলিশবাজার থানার পুলিশকে। বিভিন্ন জায়গায় তাদের সাধারণ মানুষের ওপর লাঠিচার্জ করতেও দেখা গেল।