একটু একটু করে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছিল শরীরে! এমনই এক দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন লতা মঙ্গেশকর

33
একটু একটু করে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছিল শরীরে! এমনই এক দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন লতা মঙ্গেশকর

ভারতে সংগীতজগতের সম্রাজ্ঞী হলেন লতা মঙ্গেশকর। শুধু ভারতেই নয়, প্রবাদপ্রতিম এই শিল্পীর খ্যাতি বিশ্বের প্রায় প্রতিটি প্রান্তেই ছড়িয়েছে। তার গুণমুগ্ধ সকলেই। তবে প্রদীপের তলাতেই তো অন্ধকার জমে থাকে। সংগীতের সম্রাজ্ঞীর আশেপাশে যেমন তার গুণমুগ্ধ, শুভাকাঙ্ক্ষীরা রয়েছেন তেমনই এমনও বহু মানুষ রয়েছেন যারা তাকে ঈর্ষা করেন। সেই ঈর্ষার মাত্রা এতটাই বেশি যে তারা এই অসাধারণ সঙ্গীত শিল্পীকে প্রাণে মারতেও দ্বিধা বোধ করেন না।

সম্প্রতি নিজের জীবনের এমনই এক দুঃসহ অভিজ্ঞতার কথা মিডিয়ার সঙ্গে ভাগ করে নিলেন লতা মঙ্গেশকার। একটি সর্বভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে তিনি জানালেন, ষাটের দশকের মাঝামাঝি যখন বি-টাউনের গানের দুনিয়ায় লতা মঙ্গেশকরের নাম মধ্যগগনে, তখনই তাকে প্রাণে মারার চেষ্টা করা হয়। লতাজী জানিয়েছেন, তার শরীরে দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে বিষ প্রয়োগ করা হচ্ছিল। তিনি তা বুঝতে পারেননি।

তবে স্লো পয়জনের দরুন ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে বিছানা থেকে ওঠাও তার পক্ষে মুশকিল হয়ে পড়ে। এমন সময়ে ইন্ডাস্ট্রিতে রটিয়ে দেওয়া হয়, লতা মঙ্গেশকার তার গানের গলা হারিয়ে ফেলেছেন। কিন্তু তা আদেও সত্যি ছিল না। কিন্তু লতাজীর সঙ্গে এমন ষড়যন্ত্র কে করলেন? শিল্পী জানালেন, তারা বুঝেছিলেন এর পেছনে কার ষড়যন্ত্র রয়েছে। কিন্তু প্রমাণের অভাবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তারা কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেননি।

তবে তার বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করেন, তাকে যারা ঈর্ষা করেন তাদের তুলনায় লতাজীর শুভাকাংখীর সংখ্যা অনেক বেশি। তাইতো সমস্ত ষড়যন্ত্র, বিষের প্রভাব কাটিয়ে উঠে আবারও সংগীতজগতে ফিরতে পেরেছেন এই প্রবাদপ্রতিম প্রতিভা। তিনি জানালেন, সেই সময়ে বিখ্যাত গীতিকার তথা কবি মজরুহ সুলতানপুরী এবং অপর এক সংগীত শিল্পী হেমন্ত মুখোপাধ্যায় তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন। কবি তাকে রাতদিন কবিতা শুনিয়েছেন, তার যত্ন নিয়েছেন। অপরদিকে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের প্রচেষ্টায় “বিশ সাল বাদ” সিনেমায় কাজ করে সঙ্গীত জীবনের দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করতে পেরেছিলেন লতা। তাই তাদের অবদান কখনোই ভুলতে পারেন না তিনি।