আজ জানুন ডান্স কোরিওগ্রাফার রেমো ডিসুজার সফলতার কাহিনী

9
আজ জানুন ডান্স কোরিওগ্রাফার রেমো ডিসুজার সফলতার কাহিনী

টিভিতে যে সমস্ত ব্যক্তিরা আজ সফলতা লাভ করেছে তাদের পিছনের জীবনে অনেক কাহিনী লুকিয়ে রয়েছে, হয়তো কোন কাহিনী আমরা জানতে পারি আবার কোন কাহিনী আমরা জানতে পারিনা। তাদের সফলতা অর্জন করার আগে পর্যন্ত যে কতটা চড়াই-উৎরাই হয় সেটা হয়তো অনেকেই জানিনা। এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নয় জনপ্রিয় ডান্স কোরিওগ্রাফার রেমো ডিসুজাও। মাইকেল জ্যাকসনের অন্ধভক্ত ছোট থেকেই নাচের প্রতি তার ছিল এক অদ্ভুত রকমের দুর্বলতা। মাইকেল জ্যাকসনের বিভিন্ন রকম নাচের ভিডিও তিনি দেখতেন এবং চেষ্টা করতেন ঘরে বসেই নিজের এই নাচের জগতকে একটা আলাদা জগত হিসেবে তৈরি করেছিলেন এবং সেই নাচের গুরু ছিলেন মাইকেল জ্যাকসন, অবশ্যই তাকে মনে মনে গুরু মেনে নিয়েছিলেন। নিত্য ভঙ্গি গুলোকে তিনি কব্জা করতে থাকেন এবং তার নাচের নানান স্টেপ মিলিয়ে মিলিয়ে রেমো করতে থাকে।

রেমো যার নিজস্ব এখন রয়েছে একটি ডান্স ফর্ম। তবে একজন সফল কোরিওগ্রাফার হওয়া কিন্তু মুখের কথা নয়। রেমো ডিসুজা অনেক চড়াই-উতরাই দেখেছে জীবনে আজকের এই সফলতা পাওয়ার জন্য। রেমো ডিসুজার নাম ছিল রমেশ গোপি। রেমো জন্মগ্রহণ করেছিল ১৯৭৪ সালের ২ রা এপ্রিল কেরলে। পরে কেরল থেকে চলে আসে তার পরিবার গুজরাটের জামনগর, বাবা ছিলেন একজন ভারতীয় বায়ুসেনার রাধুনী। পরিবারের সকলেরই আশা ছিল যে রেমো বড় হয়ে একজন পাইলট হবে অথবা ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা ডাক্তার।

কিন্তু রেমোর নাচের নেশা ধরে গেছিল সেটা কেউই বুঝতে পারেনি। রেমো চেয়েছিল নৃত্যশিল্পী হতে কিন্তু এই কথায় তার বাড়ির লোক কেউই রাজি ছিল না অবশেষে পাশে এই সিদ্ধান্তে দাঁড়িয়ে ছিলেন তার মা। সন্তানের স্বপ্ন পূরণ করার জন্যই জামনগরের একটি নাচের স্কুলে ভর্তি করে দিয়েছিলেন তার মা। আস্তে আস্তে যখন রেমো বড় হয় তখন বুঝতে পারে যে এই রকম ভাবে হয়তো জীবনটা চালালে হবেনা, তার যে স্বপ্ন রয়েছে কোরিওগ্রাফার হওয়ার সেটা হয়ত পূরণ হবে না।

তারপর হঠাতই মাঝপথে পড়াশোনা বন্ধ করে দিয়ে স্বপ্ন পূরণ করতে পারি দেয় মুম্বাইতে এবং সেখানে একজন পরিচিতর বাড়িতে তিনি থাকতে শুরু করেন। এরপর নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য তৈরি হন তিনি, প্রথমে তিনি একটি নাচের স্কুল শুরু করেন এবং সেটি খুব কম সময়ে চলে বন্ধ হয়ে যায়। একসময় ভীষণ অর্থ সংকটে তাকে পড়তে হয়েছিল । অনেক সময় রেলস্টেশনের বেঞ্চেও তার দিন কেটেছে। এরপরই তার পরিচয় হয় কস্টিউম ডিজাইনার লিজেলের সঙ্গে এবং সেখান থেকেই তাদের শুরু হয় প্রেম এবং অবশেষে বিয়ে।

আজ অবশ্য এই রকম একটি কঠিন লড়াই গুলোকে পিছনে ফেলে সে এগিয়ে গেছে। আজ নিজেকে একজন সফল কোরিওগ্রাফার হিসেবে সকলের সামনে নিজেকে প্রমাণ করতে পেরেছেন। যখন রিমোর স্ট্রাগল করছিল সেই সময় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন যে তিনি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে কিছু করে সকলকে প্রমাণ করে দেবেন। হতাশায় ফিরতে হয়েছিল তাকে অনেকবার। অবশেষে তার আলাপ হয় কোরিওগ্রাফার আহমেদ খানের সঙ্গে এবং তারপরেই ভাগ্য খুলে যায়। রেমোর সাথে পরিচয় ঘটে পরিচালক রামগোপাল ভার্মার এবং তারপরেই রঙ্গিলা ছবিতে কোরিওগ্রাফি করার সুযোগ পান রেমো। রেমো একসময় ব্যাকগ্রাউন্ড ডান্সার হিসেবেও কাজ করেছেন। তবে আজ সকল বাধা পেরিয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করতে পড়েছে রেমো।