আজ জানুন দশমীর মিষ্টিমুখ থেকে সিঁদুর খেলার পৌরাণিক ইতিবৃত্ত

8
আজ জানুন দশমীর মিষ্টিমুখ থেকে সিঁদুর খেলার পৌরাণিক ইতিবৃত্ত

নবমীর রাতটা হলেই মনটা বেজায়রকমের খারাপ হয়ে যায়। দশমী হলেই তো সব শেষ! এক বছরের আনন্দ, উত্তেজনা, সুখ, রং মেলানো নতুন জামার টান যে ফিকে হওয়ার পথ নেবে! চারদিন, দেবীপক্ষের মাত্র চারদিন আনন্দের সুর ছড়িয়ে পড়ে আপামর বাঙালির মনেপ্রাণে। আনন্দের বাঁশি বাজিয়ে দুর্গামা কদিনের জন্যে আসেন আলো ছড়িয়ে সকলের জীবনে আলোর প্রদীপ জ্বালাতে।

দশমীর অপরাজিতাপুজোর পরের ঘট নাড়িয়ে বিসর্জনের পরের শাঁখের আওয়াজ বা ঢাকের আওয়াজ কোনোটাই যেন আর আনন্দের থাকে, সবকিছুর মধ্যে দিয়েই ফুটে বেরোয় মন খারাপের বোল। দর্পণে দশভূজার প্রতিবিম্বের চোখেও যেন চিকচিক করে ওঠে জল, একরাশ মন খারাপ জড়িয়ে ধরে যেন স্বয়ং দুঃখহারিণীকেও।

মনখারাপের মেঘ সরিয়ে এক চিলতে রোদ্দুর আনতে বিবাহিতা মহিলারা একত্র হন সিঁদুরখেলায় যোগ দিতে। ‘মা’ উমার কাছে নিজের সংসারের মঙ্গলকামনায় আর একই সাথে ‘মেয়ে’ উমার স্বামী সংসারের মঙ্গলকামনায় তার সিঁথিতে সিঁদুর ছুঁইয়ে ভালো থাকতে বলতে কানে কানে।

মা দুর্গার কান্নাভেজা মুখ পানপাতা দিয়ে মুছিয়ে মিষ্টিমুখ করিয়ে সিঁদুরে রাঙিয়ে দেন তার সিঁথি ও মুখ। লাল টকটকে সিঁদুর দেবী দুর্গার পায়ে নিবেদন করে সেই সিঁদুর পা থেকে তুলে নিয়ে সিঁথিতে দিয়ে আগামী দিনের জন্য শুভ কামনা করা হয় মন্ডপে মন্ডপে। এরপরই বাঙালির মনে বেজে ওঠে বিদায়ের সুর। সিঁদুর খেলার প্রাথমিক ইতিহাস অজানা। তবে ধারণা করা হয়, সিঁদুর শুভক্ষণের এই আচার অনুষ্ঠান আনুমানিক ৪০০ বছর আগে শুরু হয়েছিল, তবে মনে করা হয় রাজা কৃষ্ণচন্দ্র দে তাঁর বাড়ির মহিলাদের দ্বারা এই রীতির প্রচলন করেন।

“আবার এসো মা”আকুতির মধ্যে দিয়ে বারবার ফিরে আসার আর নিজেদের মঙ্গলকামনার প্রকাশ করেন তাঁরা। লালের সুখী আভাসের সাথে বছর বছর মেয়ে উমাকে ফিরে আসার আকুতি জানান বাংলার মায়েরা, বিষাদ-হাসি হেসে। জলে নেমে ছলাৎ শব্দে দেবীও জানান-“আবার আসিব ফিরে।”