জানুন ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রের মাহাত্ম্য কথা

16
জানুন ওম নমঃ শিবায় মন্ত্রের মাহাত্ম্য কথা

হিন্দু ধর্মের ৩৩৩ কোটি দেবতার মধ্যে সবথেকে ঊর্ধ্বে যদি কেউ থাকেন তিনি হলেন মহাদেব শিব। তাকে আরাধনা করার জন্য আলাদা কিছু করতে হয় না আমাদের। খুব সহজেই সন্তুষ্ট থাকতে পারেন তিনি। তার আরাধনা করার জন্য একটিমাত্র মন্ত্র মন থেকে জপ করতে হয় আমাদের, ওম নমঃ শিবায়।

এটি শুধুমাত্র মহাদেবের আরাধনা মন্ত্র হিসাবে বিবেচিত করা হয় না। এই মন্ত্র উচ্চারণ এর মাধ্যমে নিজের সত্যকে উপলব্ধি করা যায়। বহু যুগ ধরে মুনি-ঋষিরা ওম কথাটির অর্থ দিয়ে আত্মমগ্ন থাকার চেষ্টা করে গেছেন। ওম নমঃ শিবায়, এই মন্ত্রের মধ্যে একটি শব্দ তরঙ্গ রয়েছে যা আমাদের মনের বিশুদ্ধতম অন্তঃসত্ত্বাকে জাগ্রত করতে পারে।

মন্ত্রের অর্থ: আজ থেকে কোটি কোটি বছর আগে বিশ্বব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি হবার আগে মহাশূন্যে একটি শব্দ তরঙ্গের অস্তিত্ব ছিল। সেই শব্দতরঙ্গ থেকে তৈরি হয়েছে ওম শব্দ। সংস্কৃত ভাষায় নম শব্দের অর্থ হলো প্রণাম করা। এবং অবশ্যই শিবায় কথাটির অর্থ হল মহাদেব। এই মন্ত্রের দ্বারা মহাদেব কে প্রণাম জানানো হয়। হিন্দু ধর্ম অনুযায়ী আমাদের সকলের মধ্যেই বাস করেন মহাদেব, তাই এই মন্ত্রের দ্বারা আমরা আত্ম বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করি।

ন, ম, শি, বা, য়, এই পাঁচটি শব্দের সম্পূর্ণ আলাদা অর্থ রয়েছে। ন অর্থাৎ মাটি, ম অর্থাৎ জল,শি অর্থাৎ প্রতিভূ এবং বা অর্থাৎ বাতাস, সবশেষে য় অর্থাৎ সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব। আমাদের জীবনে পাঁচটি অংকের প্রতিনিধিত্ব রয়েছে। যেমন আমাদের হাতে রয়েছে পাঁচটি আঙ্গুল, আমাদের পাঁচ ইন্দ্রিয়, আমরা তৈরি হয়েছি পঞ্চ ভূত নিয়ে।

মহাদেবেরও রয়েছে পাঁচটি কাজ। তার কাজ হল সৃষ্টি করা, পালন করা, বিশুদ্ধ করা, আচ্ছাদিত করা এবং উন্মুক্ত করা। এই মন্ত্রের মাধ্যমে অশুভ প্রভাব কে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আমাদের পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কাজ নিয়ন্ত্রণ করে এই মন্ত্র। এই মন্ত্র যদি সঠিকভাবে উচ্চারণ করা যায় তাহলে আমরা অনুভব করতে পারি মাটির শক্তি, জলের তারল্য, বাতাসের গতি এবং আগুনের উত্তাপ।