আজ বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে জানুন ঘুম সম্পর্কে কিছু জরুরী কথা

18
আজ বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে জানুন ঘুম সম্পর্কে কিছু জরুরী কথা

আজ বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে আপনাদের সঙ্গে আমরা ঘুমের কিছু গুণাগুণ শেয়ার করব। আমাদের প্রত্যেকটি মানুষের জীবনে ঘুমের প্রয়োজনীয়তা অসম্ভব। তবে সুস্থ থাকার জন্য ঠিক কতটা ঘুম প্রয়োজনীয়তা আমরা কিন্তু জানিনা। তাই আজ বিশ্ব ঘুম দিবস উপলক্ষে এই প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনাদের জানাব ঘুম সম্পর্কে বেশকিছু সচেতনতা মূলক বার্তা।

চিকিৎসকরা সাধারণভাবে দিনে আট ঘন্টা ঘুমের কথা বলে থাকেন। তবে বিশেষজ্ঞরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। বিশেষজ্ঞদের মতে শারীরিক অবস্থা কাজকর্ম এবং ওজনের ওপর নির্ভর করে ঘুমের সময়। অনেক সময় এই কর্মসূচির পরিবর্তিত হতে পারে। স্লিপ ফাউন্ডেশন এই ব্যাপারে একটি সময়সূচী দিয়েছেন সকলের জন্য। তাদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ঘুমের দরকার ৬ থেকে ৯ ঘণ্টা। ৬৫ বছরের উর্ধ্বে যেকোনো মানুষের ঘুমের দরকার সাত থেকে আট ঘণ্টা। তরুণ তরুণীদের জন্য ঘুমের সময় তারা বেঁধে দিয়েছেন ৯ থেকে ১১ ঘণ্টার মধ্যে। সাত বছরের নিচে যারা রয়েছেন তাদের ঘুমের দরকার ১০ থেকে ১৩ ঘণ্টা। এছাড়া সদ্যোজাত শিশুর ঘুমের দরকার ১৭ ঘণ্টা।

ঘুমের সময় নির্ণয় করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ে আমাদের মাথায় রাখতে হবে। প্রথমে দেখতে হবে যে টুকু ঘুম আমরা ঘুমাচ্ছি, তাতে আমাদের মন এবং মস্তিষ্ক সঠিকভাবে কাজ করছে কিনা। পর্যাপ্ত ঘুমের পর শরীরে কোনো সমস্যা দেখা দিচ্ছে কিনা। ঘুম থেকে উঠার পরেও কোন ক্লান্তি অনুভব হচ্ছে কিনা। অফিসে যারা লেখালেখি কাজ করেন অথবা যারা মাঠে খেলেন, আবার যারা খনি থেকে কয়লা তোলেন, তাদের প্রত্যেকের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রমের প্রকারভেদ বিভিন্ন রকম।

কাজের মধ্যে বারবার ঘুম পাচ্ছে কীনা তা খেয়াল রাখতে হবে সকলকে। এই সমস্ত জিনিস গুলো ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলেই বোঝা যাবে যে আমাদের শরীরে পর্যাপ্ত ঘুম হচ্ছে কিনা। অনেকে বলেন যে আমরা যেকোন সময় ঘুমিয়ে পড়তে পারি। আবার অনেকে বলেন এটি দীর্ঘ দিনের অভ্যাস হয়ে গেছে, মাত্র কয়েক ঘন্টা ঘুমালেই আমাদের হয়ে যায়। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে, আমরা অর্থাৎ সাধারণ মানুষের ভুল ধারণার মধ্যে আটকে রয়েছি।

ঘুম বিশেষজ্ঞ সিনথিয়া লাজাম্ব জানান যে, যারা ভাবছেন অল্প ঘুমালে শরীরের কোন সমস্যা হচ্ছে না তারা কিন্তু ভুল ভাবছেন। তারা অজান্তেই নিজের ক্ষতি করে ফেলেছেন। দীর্ঘদিনের এই অভ্যাস নীরবে আপনার শরীরে অনেক ক্ষতি করে। এটি আপনি সহজে বুঝতে পারবেন না। তবে একদিন এটি বড় আকার ধারণ করে আপনার সামনে উঠে আসবে।

সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, শরীর এবং মস্তিষ্ক সতেজ রাখার জন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে আমাদের শরীরে প্রশ্ন এবং বিরক্তিকর ব্যাপার-স্যাপার দেখা দিতে পারে। দেখা দিতে পারে ঘনঘন রাগ হবার প্রবণতা। যারা বহুদিন অনিদ্রায় ভোগেন তারা শারীরিক এবং মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এছাড়াও ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে অথবা হৃদ রোগের প্রবণতা বাড়ছে পারে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে ত্বক এবং চুলের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। তাই নিয়ম মত আমাদের ঘুমোনো প্রচন্ড পরিমানে দরকার।