জানুন কীভাবে বাংলা নববর্ষের সুচনা হয়েছিল

5
জানুন কীভাবে বাংলা নববর্ষের সুচনা হয়েছিল

আমরা অনেকেই ইংরেজি ক্যালেন্ডার দেখে তারিখ মনে রাখতে অভ্যস্ত। আমরা সকলেই জানি খ্রিস্টাব্দ কিভাবে তৈরি হয়েছে। যিশুখ্রিস্টের জন্ম সাল হিসেবে ধরা হয় খ্রিস্টাব্দ। কিন্তু নববর্ষের দিন অথবা বাংলা ক্যালেন্ডার দেখতে আমরা অনেকেই ভুলে গেছি। দুই দিন হল নববর্ষ হয়েছে! তাই আজ এই প্রশ্ন আপনাদের উদ্দেশ্যে আমি করছি, এই বঙ্গাব্দের প্রবর্তন কে করেছিলেন জানেন? এর উত্তর পেতে গেলে আপনাকে পিছিয়ে যেতে হবে কয়েকশো বছর। আমরা যে ক্যালেন্ডার মেনে চলি তা সৌর বছরের হিসেবে নির্ধারিত হয়। সূর্যের চারদিকে পৃথিবীর আবর্তন করতে কত দিন লাগে তার ওপর নির্ভর করে তৈরি করা হয় আধুনিক বছরের হিসেব।

কিন্তু প্রাচীন বাংলায় এই হিসেব নির্ভর করা হয় সূর্যের ওপর নয়, বরং সমুদ্রের উপর দাঁড়িয়ে এই হিসেব নির্ধারণ করা হয়। বক্তিয়ার খিলজির বঙ্গ বিজয়ের পর বাংলাদেশের তৎকালীন প্রচলিত শকাব্দের পাশাপাশি হিজরি সনের প্রচলন শুরু হয়েছিল। চান্দ্রমাস মেনে তৈরি করা হয়েছিল এই হিজরী ক্যালেন্ডার। ঐতিহাসিকদের মতে, হিজরী সন মোতাবেক ফসল তোলার সময় সঙ্গে সঙ্গে খাজনা দেওয়ার সময় কিছুতেই মেলানো যাচ্ছিল না।

এইসময় না মেলাতে পারার কারণে সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছিল চাষীদের। শেষমেষ মোগল সম্রাট আকবর যখন ভারতের মসনদে, তখন এই সমস্যা দূর করার কথা চিন্তা ভাবনা শুরু হয়। এই সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে নতুন একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করেন রাজ জ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ সিরজি। চান্দ্রমাসের আরবিও মডেলের বদলে তিনি ব্যবহার করেন পারস্য মডেল।

১৫৮৫ খ্রিস্টাব্দ থেকে শুরু হয় নতুন সাল। লোকমুখে তার নাম ফসলি সন হয়ে দাঁড়ায়। এই ফসলী সন’ পরবর্তীকালে বঙ্গাব্দ নাম ধারণ করে। অনেকে আবার দাবি করেন, এর কৃতিত্ব আকবরের নয় বরং সম্রাট শশাঙ্কের। গৌড়ের শাসক শাসকদের শাসনকালের সূচনাকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সূর্যসিদ্ধান্ত ভিত্তিক বর্ষপঞ্জ বঙ্গাব্দের সূচনা করেন।

৫৯৪ খ্রিস্টাব্দে স্বাধীন রাজ্যের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শশাঙ্ক, যা অত্যন্ত ওই সময় স্বাধীনভাবে রাজত্ব করেছিলেন। এরপরও নিশ্চিত প্রমাণ নেই কারোর কাছে। তবুও অনেকে মনে করেন শশাঙ্কের সময়কাল থেকে বঙ্গাব্দ শুরু হয়।