জানুন সেই শিব লিঙ্গের কথা যার মাথায় দুধ ঢেলে দিয়ে যেত একটি গাভী!

9
জানুন সেই শিব লিঙ্গের কথা যার মাথায় দুধ ঢেলে দিয়ে যেত একটি গাভী!

সারা ভারতবর্ষের আনাচে-কানাচে যতগুলি মন্দির রয়েছে, সব মন্দিরের উত্থানের পেছনেই কিছু না কিছু অলৌকিক কাহিনী জড়িয়ে আছে। পশ্চিমবঙ্গের তারকেশ্বর শিব মন্দির নিয়েও এরকমই একটি গল্প আজও মানুষের মুখে মুখে ফেরে। এই মন্দিরটি আসলে তারকেশ্বরের অন্তর্গত একটি শিব মন্দির। শোনা যায় এই মন্দিরে যে শিবলিঙ্গটি রয়েছে, সেই শিব লিঙ্গের মাথায় দুধ ঢেলে দিয়ে যেত একটি গাভী!

এই মন্দিরটি যিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নাম তার বিষ্ণুদাস। তিনি ছিলেন অবাঙালি। বাংলার বাইরে থেকে তিনি যখন বাংলায় এসে হুগলিতে বসবাস করতে শুরু করলেন, তখন নাকি স্থানীয় মানুষরা তাকে বিশেষ পছন্দ করতেন না। দিনরাত সমাজের মানুষদের কাছে অপদস্ত হতে হতো তার পরিবারকে। বিষ্ণুদাস ছিলেন ভগবান শিবের ভক্ত। তাই ভগবান শিবের আরাধনা করে তিনি নিজের অভাব অভিযোগ তাকেই জানাতেন।

এই ভাবে দিন কাটতে কাটতে বিষ্ণুদাসের ভাই একদিন জঙ্গলে গিয়ে দেখেন একটি পাথরের উপর একটি গরুর দুধ ঢেলে দিয়ে যাচ্ছে। রোজ একই সময়ে ওই গরুটি পাথরের উপর এসে দুধ দিয়ে যেত। ঠিক এই সময়ে ভগবান শিব তার স্বপ্নে এসে বলেন, ওই পাথরের মধ্যেই তার অবস্থান। এরপর বিষ্ণুদাস তাড়াতাড়ি পাথরটির চারপাশে মন্দির গড়ে তোলেন।

সময় বয়ে যায়। ওই সময় বাংলাতে মল্ল রাজাদের আধিপত্য গড়ে ওঠে। মল্ল রাজবংশের রাণীমা প্রতিদিন মন্দিরে পুজো দিতে যেতেন। তবে রাজবাড়ি থেকে মন্দিরের দূরত্ব অত্যধিক তো বেশি হয়ে যাওয়ার দরুন মন্দিরটিকে রাজ বাড়ির কাছাকাছি তুলে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হয়। তবে শিবের মূর্তিটিকে ওই স্থান থেকে সরানো সম্ভব হয়নি। এই রাজবাড়ির পাশেই গড়ে ওঠে তারকেশ্বরের শিব মন্দির। যে মন্দিরের মহিমা সনাতন ধর্মে বিশ্বাসীদের অজানা নেই।