অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রদানে সব থেকে পিছিয়ে রয়েছে কলকাতাঃ নীতি আয়োগের সমীক্ষা

12
অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রদানে সব থেকে পিছিয়ে রয়েছে কলকাতাঃ নীতি আয়োগের সমীক্ষা

অত্যন্ত শোচনীয় অবস্থা আমাদের! নীতি আয়োগ তাদের সমীক্ষা চালিয়ে যে রিপোর্ট পেশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে, এক বড়সড় সমস্যার সম্মুখীন হতে চলেছি আমরা। কিন্তু প্রশ্ন হল এই নীতি আয়োগ কি নিয়ে সমীক্ষা করেছেন এবং সেই সমীক্ষায় কি বা জানা গেছে? যা এক প্রকার চমকে যাওয়ার মতো!

আসুন জেনে নেয়া যাক, সেই রিপোর্টে কি পাওয়া গেছে। নীতি আয়োগ ইতিমধ্যেই ৫৬ টি শহর কে নিয়ে একটি সমীক্ষা চালিয়েছেন, এই কোভিড অতিমারীর পরবর্তী সময়ে যেখানে দেখা গেছে সাধারন মানুষদের চাকরির সুযোগ দিতে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি প্রদান করতে পিছিয়ে রয়েছে প্রতিটি দেশই, কিন্তু সবথেকে লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ কলকাতা। তবে শুধুমাত্র কলকাতা নয়, আরো সমস্ত বড় বড় শহরগুলোর অবস্থা বেসামাল।

তবে একমাত্র ব্যতিক্রম হলো বেঙ্গালুরু, তাদের লক্ষ্যে পৌঁছতে বিফল হয়েছে একশোর মধ্যে বেঙ্গালুরু স্কোর ৭৯, সেখানে কলকাতার অত্যন্ত লজ্জাজনক অবস্থা, স্কোর ৩, তবে কলকাতার পাশাপাশি রয়েছে বাণিজ্য নগরী মুম্বাইয়েরও নাম। আর বিহারের রাজধানী পাটনারও এই একই হাল। তবে রাজধানী দিল্লির স্কোর ৪৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে দক্ষিণের চেন্নাইয়ের পয়েন্ট ৩৬ অর্থাৎ অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির দিক থেকে এবং চাকরির সুযোগ এর দিক থেকে ৪ মহানগরীর পারফরম্যান্স যথেষ্টই হতাশাজনক।

তবে এরই মধ্যে অ্যাস্পিরান্ট ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে দিল্লি ও চেন্নাই শহরের নাম। যদিও হায়দ্রাবাদও এই তালিকায় নাম লিখিয়েছে। এ তো গেল সবথেকে নিম্ন স্কোর করা শহরগুলির কথা, এরপর আসা যাক ব্যাঙ্গালুরুর পরে জায়গা করে নিয়েছে রায়পুর। তালিকায় তার স্থান দ্বিতীয় তৃতীয় স্থানে আছে দেরাদুন, স্কোর ৫৯, তৃতীয় স্থান দখল করে রয়েছে পানাজি।

২০১৫ সালে ইউনাইটেড নেশনস এর তরফ থেকে এসডিজি নামক একটি পরিকল্পনা নেয়া হয়েছিল। যার উদ্দেশ্য ছিল সারাদেশে দারিদ্রতা দূরীকরণ, কিন্তু এই ১৭ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট ৮টি অর্থনৈতিক কাঠামো ও চাকরি প্রদানের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিল, কিন্তু দেখা যাচ্ছে ৫৬ টি শহরের মধ্যে মাত্র ১৩ টি শহরই পঞ্চাশের উপর স্কোর করতে পেরেছে। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে অবস্থা খুবই সঙ্গিন, এবার দেখার এটাই কলকাতা কিভাবে নিজেকে উন্নতির পথে ঘুরে দাঁড়াতে পারে। নিজের স্থান কিভাবে শীর্ষে নিয়ে যেতে পারে সেটিই দেখার।