কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় মাটির মূর্তি ছাড়াও “আড়ি লক্ষী” পূজার প্রচলন আছে বাংলায়

10
কোজাগরী লক্ষ্মী পূজায় মাটির মূর্তি ছাড়াও

সম্প্রতি, বাঙালি তাদের সর্বশ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গোৎসব কাটিয়ে উঠলো। দুর্গা মায়ের বিদায়ে ভারাক্রান্ত বাঙালির হৃদয়। কিন্তু বাঙালির তো “বারো মাসে তেরো পার্বণ”। তাই দুর্গা মা বিদায় নিলেও, আর কিছুদিনের মধ্যেই মর্তে আগমন ঘটতে চলেছে মা লক্ষ্মীর। পঞ্জিকা অনুসারে, শারদ উৎসবের শেষে আশ্বিন মাসের বিদায় লগ্নে উপস্থিত পূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মী পূজার আয়োজন করে বাঙালি।

তবে এ বছর সবেতেই দেরী। কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা এবার আশ্বিন মাসে নয়, কার্তিক মাস অব্দি পিছিয়ে গিয়েছে। ১৩ কার্তিক ১৪২৭, চলতি বছরের ৩০শে অক্টোবর, শুক্রবার কোজাগরী লক্ষ্মী দেবীর আরাধনায় মেতে উঠবে বাঙালি। দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পত্তি, পারিবারিক সুখ-সমৃদ্ধির প্রতীক। হিন্দু ধর্মাবলম্বী মহিলারা প্রতি বৃহস্পতিবার অর্থাৎ লক্ষ্মী বারে লক্ষ্মী দেবীর আরাধনা করে থাকেন।

কোজাগরী লক্ষ্মী পূজা উপলক্ষে অনেকেই মাটির মূর্তি গড়ে দেবীর আরাধনা করেন। তবে বেশ কিছু জায়গায় “আড়ি লক্ষী” পূজার প্রচলন আছে। এক্ষেত্রে বেতের ছোট চুপড়ি বা ঝুড়িতে ধান ভর্তি করে নিয়ে তার উপরে দুটি কাঠের লম্বা সিঁদুর কৌটো রেখে লালচেলি দিয়ে মুড়ে দিয়ে দেবী লক্ষী হিসেবে কল্পনা করে নিয়ে কোজাগরী লক্ষ্মীর আরাধনা করা হয়। কাঠের আসনের উপরে লক্ষীর পা এঁকে নিয়ে তার উপর নয়টি চোঙার মধ্যে পঞ্চশস্য রেখে রাতে নারকেল রেখে লাল চেলি দিয়ে মুড়ে দেওয়া হয়।

তবে মাটির সরাতে লক্ষ্মী দেবীর চিত্র অঙ্কন করেও পুজো করার প্রচলন আছে বেশ কিছু জায়গায়। লক্ষ্মী দেবীর মূর্তি অঙ্কিত ঢাকাই সরা, ফরিদপুরি সরা, সুরেশ্বরী সরা এবং শান্তিপুরী সরা খুব বিখ্যাত। নদীয়া জেলার তাহেরপুরে, নবদ্বীপ এবং উত্তর ২৪ পরগনার বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্মীর সরা অঙ্কন করা হয়।ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, আসামসহ বিভিন্ন রাজ্যে আশ্বিন মাসেরপূর্ণিমা তিথিতে কোজাগরী লক্ষ্মী দেবী পূজার প্রচলন আছে।