জানুন রানী ভিক্টোরিয়ার জীবন কাহিনী

11
জানুন রানী ভিক্টোরিয়ার জীবন কাহিনী

ভারতীয় রাজ পরিবারে তার জন্ম হয়েছিল ঠিকই কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত সারা জীবন কাটান এক ব্রিটিশ রাজ পরিবারে। আসলে তিনিই প্রথম যিনি ভারতীয় রাজ পরিবারের প্রথম গিয়েছিলেন ব্রিটেনে। আজ যখন ব্রিটিশ রাজ পরিবারে বর্ণ বিদ্বেষের অভিযোগে ধস্ত, সেখানেই কিন্তু গৌরাম্মা, যাকে ভিক্টোরিয়া গৌরাম্মা হিসেবেই পরিচিত। ১৮৩৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি যখন কুর্গের বিরুদ্ধে লড়াই করে তাদের পরাজিত করে, তখন তাদের সপরিবারকে নির্বাসনে পাঠানো হয় বারাণসীতে।

আর সেখানেই ১৮৪১ সালে ফেব্রুয়ারী মাসে গৌরাম্মার জন্ম হয়। তার জন্মের পরেই তার মা মারা যায়, খুব কাছের ছিল তার বাবা। ১৪ বছর নির্বাসিত থাকার পর তার বাবা লন্ডনে যান ও সাথে ১১ বছরের গৌরাম্মাকে নিয়ে যান। সেখানে আসলে তিনি গিয়েছিলেন তার সম্পত্তি ফিরিয়ে পাওয়ার দাবিতে। কিন্তু সেখানে তার বন্ধু ইউলিয়াম বলে নিজের মেয়ের ভবিষ্যত আগে সুরক্ষিত করতে। গৌরাম্মার গায়ের রঙ ছিল গৌবর্ণের, আর সেই কারণেই কি তাহলে রাণি ভিক্টোরিয়ার প্রিয় পাত্রী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন তিনি? পুরোনো প্রতিবেদনে এমনটাই উল্লেখ রয়েছে।

পরে নাকি তার বাবার কথা মতোই হিন্দু থেকে খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বি হন গৌরাম্মা। আর তখনই রাণি ভিক্টোরিয়াকে তিনি তার ধর্ম মা হিসেবে গ্রহণ করেন। রাণী তখন তার নাম রাখেন রাজকুমারী ভিক্টোরিয়া গৌরাম্মা। ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর মেজর ড্রামন্ড ও তার স্ত্রীর কাছ থেকেই পাশ্চাত্যের আদব কায়দা তিনি রপ্ত করেন। তার মাঝে মাঝে দমবন্ধ লাগত, কারণ রাজ পরিবার মানেই চর্চার মধ্যে থাকে। আলো ও মানুষের সামনে থাকা।

তার এত আলো , এত আয়োজন ভালো লাগত না, সে চাইত নিভৃত অবসর। মহারাজা দলীপ সিং যার কথা না বললেই নয়, যাকে একটা সময় নির্বাসিত করা হয়েছিল ব্রিটেনে। এই দলীপ সিং এর সাথেই বিয়ে দেওয়ার কথা ছিল গৌরাম্মার। কিন্তু দুজনের কারওর তরফেই একে অন্যের প্রতি আকর্ষণ তৈরী হয় নি। গোরাম্মাকে নিজের বোনের মতো দেখত সে। পরে অবশ্য এক সেনাবাহিনীর মধ্যবয়সী আধিকারিক কর্ণেল জন ক্যাম্পবেলের প্রতি আসক্ত হন, পরে তার সাথেই তিনি বিয়ে করে সংসার করেন।