জেনে নিন যে কারনে ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীরা পুজা অর্চনা বা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারে না

14
জেনে নিন যে কারনে ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীরা পুজা অর্চনা বা মন্দিরে প্রবেশ করতে পারে না

মাসিক বা ঋতুস্রাব মেয়েদের জীবনে স্বাভাবিক ঘটনা। প্রতিমাসে পিরিয়ডের সম্মুখীন হতে হয় নারীদের। এই সময় বিভিন্ন কিছু নিয়ম মানতে হয় নারীদের। বিশেষ করে পিরিয়ড চলাকালীন নারীদের মন্দিরে প্রবেশ দেওয়া হয় না বা পুজোর কাজ করতে নিষেধ আছে। কিন্তু এর পিছনে কি কারণ লুকিয়ে আছে তা কি জানা আছে। যদি জানা না থাকে তাহলে জেনে নিন।

নারীদের ঋতুস্রাব হবার পিছনে একটি পৌরাণিক কাহিনী আছে। এই কাহিনীর সূত্রপাত হয়েছে দেবরাজ ইন্দ্রর থেকে। দেবতা ও অসুরের ঝামেলা নিয়ে অসুররা ইন্দ্রদেবের উপর আক্রমণ করে বসে। দেবরাজ ইন্দ্র ভয়ে প্রাণ হাতে নিয়ে ব্রহ্মদেবের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয়। তিনি ব্রহ্মদেবের কাছে জানতে চান কিভাবে ফের স্বর্গরাজ্য পুনরুদ্ধার করা যাবে অসুরের হাত থেকে।

তখন ব্রহ্মদেব তাকে ব্রহ্মজ্ঞানী নামে একজন সাধুর সেবা করতে বলেন, তিনি যদি সন্তুষ্ট হন তাহলে দেবরাজ ইন্দ্র এই সংকট থেকে মুক্তি পাবেন। কিন্তু ওই ব্রহ্মজ্ঞানীর মা ছিলেন অসুরজাতির, তার অসুর প্রীতি ছিল, সেকথা জানতে পেরে দেবরাজ ইন্দ্র ব্রহ্মজ্ঞানীকে মেরে ফেলেন।

এই পাপ কাজ করায় এই পাপ থেকে আরো অসুরের জন্ম হয়ে দেবরাজ ইন্দ্রকে তাড়া করে, তখন ইন্দ্রদেব বাধ্য হয়ে ভগবান বিষ্ণুর কাছে আশ্রয় নেয়, তখন বিষ্ণু ঠাকুর ইন্দ্রদেবকে বলে, তার পাপ যদি গাছ, জল ও নারীর মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যেতে পারে তাহলে তিনি মুক্তি পাবেন ও হারানো রাজ্য ফিরে পাবেন। ভগবান বিষ্ণুর কথামতো দেবরাজ ইন্দ্র তার পাপ গাছ, জল ও নারীর মধ্যে ভাগ করে দেন, কথিত আছে তখন থেকেই নারীদের প্রতিমাসে ঋতুস্রাবের সূচনা হয়।

ইন্দ্রদেবের সেই পাপ এখনো বহন করে নিয়ে চলেছে নারীরা। পৌরাণিক মতে,তখন থেকেই নারী শরীরে ঋতুস্রাব হতে থাকে প্রতি মাসে। ইন্দ্রদেবের পাপের ভাগিদার হবার জন্য ঋতুস্রাব চলাকালীন নারীরা পুজা অর্চনা বা মন্দিরে প্রবেশ থেকে বিরত থাকেন।