জানুন বিশ্বের সবচেয়ে পাঁচটি মূল্যবান বস্তু সম্পর্কে-

8
জানুন বিশ্বের সবচেয়ে পাঁচটি মূল্যবান বস্তু সম্পর্কে-

পৃথিবীর বুকে কত যে মূল্যবান সম্পদ রয়েছে আমরা সব এখনও জেনেই উঠতে পারিনি। তবে যতদূর আবিষ্কার করা গেছে তার মধ্যে বেশ কিছু বস্তু রয়েছে যার দাম শুনলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।এমন বলা হয়ে থাকে যে পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান বস্তুটির মাত্র ১ গ্রাম এর মূল্য দিয়ে শত শত গ্রাম বা বিশ্বের একটি দেশও কিনে ফেলা সম্ভব। উল্লেখিত এই বস্তুটির ১ গ্রাম ওজনের দাম প্রায় ৪০ লাখ কোটি টাকা। আসুন, জেনে নিই বিশ্বের সবচেয়ে পাঁচটি মূল্যবান বস্তু সম্পর্কে-

১.ক্যালিফোর্নিয়াম- এটি একটি অতি দুর্বল রেডিও অ্যাকটিভ পদার্থ। এছাড়াও এই পদার্থটি নিউট্রন এন্টিম্যাটার নামেও পরিচিত। পূর্বে পৃথিবীর খুঁজে পাওয়া সবচেয়ে দামি পদার্থের মধ্যে এটি ছিল প্রথম। ১৯৮৫ সালে বারকেলেই এর ইউনিভার্সিটি অফ ক্যালিফোর্নিয়া রেডিয়েশন ল্যাবরেটরিতে পাওয়া যায় এই পদার্থটি। এক গ্রামের ১০০ ভাগের এক ভাগ এর দাম প্রায় ২৫ কোটি টাকা। সে হিসেবে এর এক গ্রামের দাম দাঁড়ায় ২৫০ কোটি টাকা, যা সত্যিই অবিশ্বাস্য।

২.ট্রিটিয়াম- এটি এক ধরনের রেডিও এক্টিভ পদার্থ, যা হাইড্রোজেন-৩ নামেও পরিচিত। ট্রিটিয়ামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে এটা থেকে এমন এক ধরনের আলো সৃষ্টি হয় যা অন্ধকারেও জ্বলে থাকে। ট্রিটিয়াম রেডিও একটিভ পদার্থ হওয়ার কারণে আলোর বিচ্ছুরণ ছাড়াও হাইড্রোজেন ও পারমাণবিক বোমা তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হয়। ট্রিটিয়ামের এক গ্রাম ওজনের মূল্য প্রায় ১৩০ কোটি টাকা।

৩.টাইপ টু বি হিরে- পৃথিবীতে মোট চার ধরনের ডায়মন্ড বা হিরে পাওয়া যায়। এর মধ্যে টাইপ-টু বি হিরে সবচেয়ে দামি। টাইপ টু বি হিরের এক গ্রামের দাম প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। সারা বিশ্বে অসংখ্য হিরে থাকা সত্ত্বেও কোহিনূর হিরেকেই এই পৃথিবীর সবচেয়ে দামি হিরে বলা হয়।

৪. টাফেইটি- কমবেশি সকলেই হিরে, মতি, পান্না সম্পর্কে জানেন। ঠিক সেরকমই এক ধরনের রত্ন আছে, যা পুরো বিশ্বের মধ্যে একমাত্র শ্রীলঙ্কাতেই এটি পাওয়া যায়। এটি দেখতে হালকা লাল রঙের। সর্বপ্রথম ১৯৪৫ সালে রিচার্ড ট্যাফে নামের এক ব্যক্তি এর খোঁজ পান। এর এক গ্রামের ওজন ১৬০ কোটি টাকা। এবং এটি বিশ্বের পাঁচ নম্বর দামি বস্তু।

৫.অ্যান্টিম্যাটার- পৃথিবীর সবচেয়ে দামি বস্তু গুলির মধ্যে সবচেয়ে দামী হলো এই বস্তুটি। এটির এক গ্রামের ওজন প্রায় ৪০ লাখ কোটি টাকা।

এটি কখনও বানানো যায় না অর্থাৎ পুরোটাই প্রাকৃতিক বা এক কথায় বলতে গেলে এটি বানানো অসম্ভব। বিজ্ঞানীদের গবেষণালব্ধ ফলাফল এবং চেষ্টার পর এটির মাত্র ৩০৯ টি আইটেম বানানো সম্ভব হয়েছে এখনও পর্যন্ত। এরপর থেকে অসংখ্য বার এটা নিয়ে আলোচনা বা গবেষণা করা হয়েছে তবে আমেরিকার অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, আকাশের ঠান্ডার স্টর্ম মেঘের স্তরের উপরে এই বস্তুটি পাওয়া সম্ভব। পরবর্তীতে একটি দল বিজ্ঞানী ১৭ মিনিটের জন্য ৩০৯ টি অ্যান্টিম্যাটার আইটেম বানাতে পেরেছিল। আসলে খুবই অল্প সময়ের জন্য বানানো এই বস্তুটির দাম এ জন্যই এত চড়া। নিউটন প্রোটন ও পজিট্রন এই সবকিছুর জন্যই এটি অ্যান্টিম্যাটার।