জানুন ভগবান শ্রী বিষ্ণুর কল্কি অবতাররূপে জন্ম নেওয়ার কথা

9

পুরাণ মতে, ভগবান শ্রী বিষ্ণুর দশ অবতারের কথা আমরা প্রত্যেকেই শুনেছি। আর সেই দশ অবতারের শেষ অবতার হল কল্কি অবতার। এই কল্কি অবতার কলিযুগে অবতীর্ণ হবে বলে বলা হয়েছে পুরাণে।

লোকমুখে কথিত আছে যে, কলিযুগে পাপের হাত থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতেই শ্রী বিষ্ণুর কল্কি অবতাররূপে জন্ম নেওয়ার কথা। কিন্তু এই কল্কি অবতার মোটেই শান্তিপ্রিয় রূপ নয় ভগবানের, এই রূপ খুবই আক্রমনাত্বক। বলা হয় হাতে উন্মুক্ত তরোয়াল নিয়ে সাদা ঘোড়ার পিঠে চড়ে আসবেন তিনি কলিযুগের সমস্ত পাপী মানুষদের বিনাশ করতে গীতা পড়লে সে কথার উল্লেখ পাওয়া যায়।

গীতায় বলা আছে,
‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত৷
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্৷৷
পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্৷
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভাবামি যুগে যুগে’।
অর্থাত্‍ ‘এই জগত যখনই পাপের ভারে ভরে উঠবে, তখনই সাধুদের রক্ষা করতে ও ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে আমি যুগে যুগে আবির্ভূত হব’।
এই দিনে শ্রী বিষ্ণুর বিভিন্ন মন্দিরে পূজা করা হয়। এই দিন নিজের প্রিয় খাবার অর্পণ করার রীতি আছে। বাড়িতেও এই পূজা অনেকেই করেন। কল্কি অবতারের মূর্তি বা ছবি না পেলে নারায়নের ছবিতেই পূজা করতে পারেন। বলা হয় এই দিনে বিষ্ণুর পূজা করলে জীবনের সকল বাঁধা বিপত্তি কেটে যায়। শ্রী বিষ্ণুর কল্কি অবতারের পূজা অর্চনা কি কি নিয়ম মেনে করবেন আসুন জেনে নেওয়া যাক।
১. সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন হয়ে নিয়ে একটি হালকা রঙের পোশাক পরুন।
২. এর পর নারায়ণকে সাজান চন্দন বা কুমকুমের টিপ দিয়ে।
৩. অক্ষত নিবেদন করুন। ভাঙ্গা চাল কোনোমতেই যেনো না হয়।
৪. একটি ঘী এর প্রদীপ জ্বালিয়ে দিন।
৫. নারায়ণকে ফুল, ফল, আবির নিবেদন করুন।
৬. এর পর এই পূজার ফল মিষ্টি সকলকে বিতরণ করুন।
৭. সম্ভব হলে দরিদ্রদের খাওয়ান। এতে আপনার মঙ্গল হবে।

শ্রী বিষ্ণুর কল্কি অবতারের কাছে প্রার্থনা করুন যাতে সংসারের সব বাধা বিপত্তি কেটে যায়। এভাবেই পূজা সম্পন্ন করুন।
নিষ্ঠা ভরে সব নিয়ম মেনে পূজা করলে ভগবান বিষ্ণু অত্যন্ত খুশি হয়ে আশীর্বাদ প্রদান করেন।