ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে লাইম লাইটে জবেদুল ইসলাম এবং তহিদুল ইসলামরা

5
ট্রেন দুর্ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে লাইম লাইটে জবেদুল ইসলাম এবং তহিদুল ইসলামরা

জলপাইগুড়ি ময়নাগুড়িতে সম্প্রতি ঘটে গিয়েছে ভয়াবহ এক ট্রেন দুর্ঘটনা। বহু মানুষ নিহত হয়েছেন এই দুর্ঘটনায়। আহতের সংখ্যাও অনেক। পেনড্রাইভ আনার পর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছেন ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মধ্যে জবেদুল ইসলাম এবং তহিদুল ইসলামরা উদ্ধারকার্য চালিয়ে আজ সকলের চোখের মনিতে পরিণত হয়েছেন। দুর্ঘটনার পর তারাই সবার আগে ছুটে আসেন।

এরপর তারা তাদের বন্ধু ও প্রতিবেশীদের চিৎকার করে ডেকে আনেন। সকলে মিলে আহতদের উদ্ধার করতে নেমে পড়েন। প্রশাসনের আধিকারিকদের খবর দেন তারাই। জবেদুল ইসলাম এবং তহিদুল ইসলামদের বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে 30 মিটার দূরত্বে। বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটা নাগাদ আচমকাই ট্রেন দুর্ঘটনার কবলে পড়ে দূরপাল্লার গৌহাটি বিকানির এক্সপ্রেস।

ট্রেন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত 9 জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালে আহত অবস্থায় ভর্তি আছেন 43 জন। উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতাল এবং ময়নাগুড়ি হাসপাতালে আহতদের চিকিৎসা চলছে। এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হয়েছে এলাকার বাসিন্দাদের জন্য। কারণ আর আহতদের মধ্যে অনেকেই আছেন যাদের উপযুক্ত সময়ে চিকিৎসা না হলে মৃত্যু হতে পারত।

দুর্ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার নেমে আসে। তার উপর কুয়াশা ঘিরে ধরে। তাই উদ্ধারকার্য চালাতে সমস্যা হয়। যদিও ওই দুই যুবক মিলে লাইটের ব্যবস্থা করে ফেলেন। তারাই বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে লাইট জ্বালিয়ে গ্রামবাসীদের উদ্ধারকার্যে সাহায্য করেন। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের মধ্যে অনেকেই তখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি। দুর্ঘটনার পর প্রায় দেড় ঘন্টা পরে আধিকারিকেরা এসে পৌঁছান। ততক্ষণে 26 জনকে উদ্ধার করে ফেলেছেন গ্রামবাসীরা। গ্রামবাসীদের সহযোগিতায় পরে 300 জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।