মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীর আলো দেখতে সময় লাগলো ২৭ বছর, সৌজন্যে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি

14
মাতৃগর্ভ থেকে পৃথিবীর আলো দেখতে সময় লাগলো ২৭ বছর, সৌজন্যে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি

দশ মাস দশ দিন নয়, মাতৃক্রোড়ে পৃথিবীর আলো দেখতে তার সময় লাগলো ২৭ বছর। হিসেব মতো তার বয়স ২৭ বছর। কিন্তু আদতে তা নয়। সবে পৃথিবীর আলো দেখেছে সদ্যোজাত। ভাবছেন কেমন করে তা সম্ভব হল? বিজ্ঞানের এই যুগে কি না সম্ভব! বিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলেই ২৭ বছর ভ্রুণ অবস্থায় কাটানোর পর আজ সে শিশুসন্তানে পরিণত হয়েছে। নেপথ্যে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি।

জানা গেল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাতে ১৯৯২ সাল থেকে সংরক্ষিত ছিল বেশ কিছু ভ্রুণ। তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে প্রবল ঠান্ডায় বছরের পর বছর মানব ভ্রূণ সংরক্ষণ করে রাখা হয়। এই প্রকারের সংরক্ষিত ভ্রূণ গুলিকে বলে ফ্রোজেন এমব্রায়ো। সেরকমই সংরক্ষিত ভ্রুনের মধ্যে থেকে দুটি ভ্রুন দত্তক নেন টিনা গিবসন এবং বেন গিবসন।

আরও জানা গেল, গিবসন দম্পতির প্রথম সন্তান যার বয়স এখন পাঁচ বছর, তাকেও একই পদ্ধতিতে ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতিতেই লাভ করেছেন তারা। তাদের প্রথম সন্তান ছিল কন্যা। বিজ্ঞানের দৌলতে এবারেও কন্যা সন্তানেরই জনক-জননী হয়েছেন তারা। কন্যার নাম তারা রেখেছেন মলি। উল্লেখ্য, টিনা অর্থাৎ মায়ের বয়স এই মুহূর্তে ২৯ বছর। অর্থাৎ, সঠিক সময়ে জন্মগ্রহণ করলে মলির সঙ্গে তার মাত্র দুই বছরের বয়সের পার্থক্য হতো।

তবে যাই হোক, ২৭ বছর পর জন্মগ্রহণ করে মলি কিন্তু ইতিমধ্যেই বিশ্বরেকর্ড গড়ে ফেলেছে। কারণ তার জন্ম হয়েছে বিশ্বের সবথেকে বেশি সময় ধরে সংরক্ষিত ভ্রুণ থেকে। উল্লেখ্য, ভ্রুণ সংরক্ষণ করে রাখার সেই মার্কিন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনটি জানিয়েছে, তাদের সম্ভারে এই মুহূর্তে প্রায় এক মিলিয়নেরও বেশি ভ্রুণ রয়েছে। সেখান থেকেই দুটি ভ্রূণ সংগ্রহ করে টিনার গর্ভাশয়ে প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। বর্তমানে দুই সন্তানের জনক-জননী হয়েছেন গিবসন দম্পতি।