গুটখার দাগ তুলতেই প্রতি বছর ১২,০০০ কোটি টাকা খরচ! চিন্তায় ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ

7
গুটখার দাগ তুলতেই প্রতি বছর ১২,০০০ কোটি টাকা খরচ! চিন্তায় ভারতীয় রেল কর্তৃপক্ষ

২০১৪ সালের ২রা অক্টোবর মহাত্মা গান্ধীর ১৪৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বচ্ছ ভারত অভিযান কর্মসূচির সূচনা করেন। এই অভিযানের সূচনা হয়েছিল দেশের সর্বত্র জাতীয় আন্দোলন হিসেবে। ভারতের মানুষ সাক্ষী আছেন কি জাঁকজমকপূর্ণভাবে স্বচ্ছ ভারত অভিযান দেশজুড়ে চালু করা হয়েছিল। এতে দেশ আদৌ কিছু স্বচ্ছ হয়েছে কিনা তা নিয়ে কিন্তু যথেষ্ট মতবিরোধ আছে। তবে রেল স্টেশন বা ট্রেনের কামরাগুলো লক্ষ্য করলে এই অভিযানের কর্মসূচির কোনো প্রমাণই পাওয়া যায় না।

স্বচ্ছ ভারত অভিযান চালু করা হয়েছিল ঠিকই কিন্তু মানুষের হুঁশ আজও ফেরেনি। তার ফল হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে ভারতীয় রেল। তার প্রভাব যথেষ্ট মাত্রায় পরিলক্ষিত হয় প্লাটফর্ম, ট্রেনের কামরাতে। প্লাটফর্মেই হোক বা ট্রেনের কামরা সব জায়গাতেই সভ্যতা-ভব্যতা শিকেয় তুলে দেদার থুতু ফেলতে দেখা যায় অনেক যাত্রীদের। যেন সবটাই তার নিজের সম্পত্তি। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল গুটখা। আপনি ভাবছেন তো যে এতে কিইবা হবে! ঠিকঠাক মতো পরিষ্কার করলেই তো আর এত কথা ওঠে না। তবে শুনুন, এই গুটখার দাগ তুলতে প্রতি বছর রেলের প্রচুর ক্ষতি হয়। ভারতীয় রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রতি বছর ১২,০০০ কোটি টাকা খরচ হয় গুটখা-র দাগ তুলতে। কি! সব শুনে চোখ কপালে উঠছে নিশ্চয়ই!

প্রায় দু’বছর কোভিডের কারণে যাতায়াত ব্যবস্থায় ঘটেছে ছেদ। দেশজুড়ে পালন করা হচ্ছে কড়া গাইডলাইন। এমতাবস্থায় পরিচ্ছন্নতার দিকেই বিশেষ নজর দিয়েছে সরকার। কিন্তু তাতে গুটখা সেবনকারীদের কিইবা এসে গেল! হাতে স্যানিটাইজার, মুখে মাস্ক – রাস্তায় বেরোলে এই চিত্রটা এখন খুব স্বাভাবিক। কিন্তু মুখ থেকে টুক করে মাস্ক সরিয়ে যেখানে সেখানে গুটখার পিক ফেলায় তো কোনো মানা নেই! আর তাই রেল স্টেশন সহ বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি জায়গাই গুটখার পিক ফেলার জন্য আদর্শ বলে মনে করেন তারা। ঠিক সেই কারণেই বিপদ বাড়ছে রেলের।

তাই এই সমস্যার সমাধানের জন্য রেল স্টেশনগুলিতে থুতু ফেলার জন্য কিয়স্ক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। দেশের ৪২টি স্টেশনে আপাতত এই ধরনের কিয়স্ক বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এতে গুটকা সেবনকারীদের সুবিধা হতে পারে। তারা স্টেশনে বা লাইনে থুতু না ফেলে কিয়স্ক ব্যবহার করতে পারবেন। এইসব কিয়স্কে থাকবে এক ধরনের পাউচ। সেখানেই থুতু ফেলা যাবে। রেলের আশা এতে সমস্যার কিছুটা হলেও সুরাহা হবে। কিন্তু শেষমেষ যাত্রীদের হুঁশ ফিরবে কিনা সেটাই এখন দেখার।