নারদ মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতার

14
নারদ মামলায় অন্তর্বর্তী জামিন রাজ্যের চার হেভিওয়েট নেতার

গত সপ্তাহ ধরে নারদ মামলা নিয়ে শোরগোল পড়ে ছিল সমস্ত রাজনৈতিক মহলে। নারদ মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং সুব্রত মুখোপাধ্যায় কে। শীর্ষ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করবেন কিনা তা নিয়ে দেখা গিয়েছিল যথেষ্ট উদ্বেগ। গত সোমবার থেকে তারা গৃহবন্দি ছিলেন। গ্রেফতারের পর প্রায় সকলের শরীর খারাপ হয়ে যাবার ফলে তাদের বাড়িতেই নজর বন্দি করে রাখা হয়েছিল। অবশেষে ২ লক্ষ টাকার বিনিময় তাদের অন্তর্বর্তী জামিনের নির্দেশ দিল আদালত।

আপাতত তারা এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কোনো রকম কথা বলতে পারবেন না। এছাড়াও মামলার তথ্য কোনরকমে বিকৃত করা। পাঁচ বিচারপতির বৃহত্তর বেঞ্চে রাজ্যের চার নেতা মন্ত্রীর জামিন সংক্রান্ত মামলা শুরু থেকে কিছু শর্ত দেওয়া হয়েছিল তাদের। এদিন সিবিআইয়ের আইনজীবী তুষার মেহেতার কাছে মতামত চেয়ে ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি।

শুনানীতে বিচারপতি রাজেশ বিন্দল জানান, আমরা প্রস্তাব দিচ্ছি অভিযুক্তদের অন্তর্বর্তী জামিন দেওয়া হোক কিছু অর্থের বিনিময়ে। এই ব্যাপারে সিবিআইয়ের আইনজীবীদের মত জানার চেষ্টা করছি আমরা। জবাবে সিবিআইয়ের আইনজীবী জানান যে, কিছুতেই জামিন দেবেন না। এটাই আমার আবেদন। জামিন হলে মানুষের ভাবাবেগকে ব্যবহার করে আর একবার তারা সুযোগ পেয়ে যাবেন পরবর্তী অন্যায় করার জন্য। জামিন হয়ে গেলে মূল বিষয়টি ঠাণ্ডা ঘরে চলে যেতে পারে।

এই প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি আইনজীবী কে আশ্বস্ত করে বলেন যে, এই ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থাকুন। ব্যাপারটি ঠাণ্ডা ঘরে যাবে না। আমরাও মূল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। নখ কাটতে তরোয়াল ব্যবহার করা উচিত হবে না। এখানে পাঁচটি তরোয়াল আছে।

অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে আদালতে আগেই জানানো হয়েছিল যে, মানুষের জন্য তাদের কাজ করা দরকার। গৃহবন্দি হয়ে থাকলে রাজ্য বাসীদের ক্ষতি হয়ে যাবে। এই প্রসঙ্গে বৃহত্তর বেঞ্চ এর পক্ষে বিচারপতি ইন্দ্র প্রসন্ন মুখোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন যে, যখন এতদিন গ্রেফতার করা হয়নি তখন এখন গৃহবন্দী করে থাকার কোনো মানে হয় না।

এরপরই ওই চার নেতা এবং মন্ত্রীদের জামিন মঞ্জুর করে দেন কলকাতা হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ। ৫ বিচারপতি জামিনের পক্ষে মত দিয়েছিলেন। এরপর সাময়িক বিরতির পর বিচারপতিরা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে চার নেতা মন্ত্রীর অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর নির্দেশ দেন।