এক তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত উদ্ধারকারী, পলাতক অভিযুক্ত

4
এক তরুণীকে বাঁচাতে গিয়ে আহত উদ্ধারকারী পলাতক অভিযুক্ত

প্রায় মধ্যরাত্রি তখন। পরিবারের সঙ্গে গাড়ি করে ফেরার সময় বাইপাস এর কাছে হঠাৎ করে শুনতে পান একটি নারী কণ্ঠের আর্তনাদ। প্রথমে কিছু বোঝা না গেলেও কিছুক্ষণের মধ্যে ঠাওর হয়, একটি চলন্ত গাড়ি থেকে ভেসে আসছে সেই আওয়াজ। বুঝতে পারার পরেই আর দুবার ভাবেননি তিনি। গাড়ি থেকে নেমে পড়েছেন ওই তরুণীকে বাঁচাতে। অভিযুক্ত গাড়ি থেকে বসে থাকা অভিযুক্তরা ততক্ষনে বুঝতে পেরে যায় যে কেউ সেই তরুণী কে বাঁচাতে এসেছে। তাই বিন্দুমাত্র দেরি না করে উদ্ধারকারীর পায়ের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয় তারা।

এমন একটি অভিনব কাণ্ড ঘটেছে খোদ কলকাতার ইএম বাইপাসে, আনন্দপুর থানা এলাকার আর আর প্লটে একটি আবাসনে সামনে।

পুলিশ সূত্রে খবর, গাড়ির ভিতর থেকে ছিটকে পড়ে যাওয়া ওই তরুণী ও এখন আতঙ্কে রয়েছেন। প্রাথমিকভাবে তার থেকে জানা গেছে, গাড়ি চালকের নাম অমিতাভ বসু। নির্যাতিতা এই তরুণী একজন ব্যাংকের কর্মচারী। কিছু মাস আগে সোশ্যাল মিডিয়াতে অমিতাভের সঙ্গে আলাপ হয় তার। যুবকের সঙ্গে এই মহিলার মাঝে মাঝেই সোশ্যাল মিডিয়াতে ভালোই কথা হতো। ধীরে ধীরে সম্পর্ক বেড়ে তৈরি হয় ঘনিষ্ঠতা। এরপরই তারা একদিন দেখা করে সামনাসামনি।

শনিবার রাত্রি আটটায় প্রথমবার দেখা করার জন্য তারা বেরিয়ে ছিলেন। এদিকে রাত বেড়ে গেলেও তরুণীকে বাড়ি ফিরতে বাঁধা দেয় অভিযুক্ত যুবক। প্রথমেই তরুণী কিছু বুঝতে পারেনি। কিন্তু এরপরই ঘটনাটি কিছুটা সিনেমার মোড় নিয়ে নেয়। গাড়ির ভেতরেই হঠাৎ করে তাকে মারধর শুরু করে দেয় যুবক। জোর করে শ্রীলতাহানি করতে শুরু করে দেওয়ায় ভয় পেয়ে যায় ওই তরুণী।

অপরদিকে তরুণীকে উদ্ধারকারী ওই মহিলার কথা বলতে গিয়ে পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধারকারী মহিলার নাম নীলাঞ্জনা চট্টোপাধ্যায়। বাপের আবাসন থেকে মায়ের জন্মদিনের অনুষ্ঠান শেষ করে স্বামী দীপ শতপদী এবং মেয়ের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। গাড়িতে উঠতে যাবার সময় হঠাৎ করে তাদের গাড়ির পেছনে একটি গাড়ির ভেতর থেকে চিৎকার শুনতে পায় নীলাঞ্জনা। মুহূর্তের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় নেয়া হয় সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে পিছনের দিকে যেতেই, ভেতর থেকে ওই তরুণীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। নীলাঞ্জন এর সঙ্গে সঙ্গে ওই তরুণীকে উদ্ধার করতে যেতেই পেছন থেকে ধাক্কা মারে নীলাঞ্জনাকে।

এদিকে দুর্ঘটনা কবলিত নীলাঞ্জনাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে কোনো এম্বুলেন্স না পেয়ে ১০০ ডায়াল করেন তারা। ঘটনাটা জানতে পেরেই কসবা ট্রাফিক গাড়ির একজন সার্জেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। কলকাতা পুলিশের ট্রমা কেয়ার অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে নীলাঞ্জনাকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইপাসের একটি বেসরকারি হাসপাতালে। এরপর আনন্দপুর থানার পুলিশের এক তরুণীকে উদ্ধার করেন ঘটনাস্থলে পৌঁছে। তবে এটা আবারো প্রমাণিত, নারীশক্তি পারেনা এমন কোন কাজ নেই। নিজের জীবনকে বিপন্ন করে ও একজন নারী পারে অন্য কোন নারীকে উদ্ধার করতে।