সীমান্ত সংঘাতের পরেও চীনের “এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক” থেকে ঋণ নিচ্ছে ভারত

8
সীমান্ত সংঘাতের পরেও চীনের

ভারত-চীন সীমান্তে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় উভয় রাষ্ট্রের সেনাদের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা অব্যাহত। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় চীনা আগ্রাসন ঠেকাতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ভারতীয় সেনাবাহিনী। সীমান্ত সংঘর্ষের কারণে ভারতের কুড়ি জন সেনা জওয়ান শহীদ হন। এখনো পূর্ব লাদাখ সীমান্তে ফিঙ্গার পয়েন্ট চার এলাকায় একে অপরের দিকে বন্দুক উঁচিয়ে রয়েছে ভারত এবং চীন।

চীনের কার্যকলাপ লক্ষ্য করে ভারতীয়দের মধ্যে চীনকে বয়কট করার স্লোগান ওঠে। একে একে চীনের সাথে বিভিন্ন বাণিজ্যিক চুক্তি খারিজ করলেও সম্প্রতি ভারত-চীন কূটনৈতিক নীতি প্রসঙ্গে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেল। গতকাল সংসদের বাদল অধিবেশনে কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর জানালেন, সীমান্ত সংঘাতের পরিস্থিতির মধ্যেও বিগত কয়েক মাসে চীনের “এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক” থেকে বেশ মোটা অংকের টাকা তুলেছে ভারত।

অনুরাগ ঠাকুরের প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী টাকার অংকটা প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এদিন সংসদে তিনি জানিয়েছেন, ভারতের পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে চীনের ব্যাংক থেকে মোট দুটি ঋণচুক্তি স্বাক্ষর করেছে ভারত সরকার। এর মধ্যে প্রথম চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয় গত মে মাসের ৮ তারিখে। এই চুক্তি অনুযায়ী চীনের এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ হাজার ৬৭৬ কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করে ভারত।

প্রথম চুক্তি থেকে গৃহীত ঋণের টাকা দেশের করোনা মোকাবিলায় এবং চিকিৎসা খাতে ব্যয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী। দ্বিতীয় চুক্তিটি গত জুন মাসের ১৯ তারিখে স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তি অনুযায়ী চীনের কাছ থেকে প্রায় ৫ হাজার ৫১৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ভারত। উল্লেখ্য, লাদাখে যেদিন ভারত এবং চীনের সেনাবাহিনীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়েছিল এবং সংঘর্ষ চলাকালীন সীমান্তে কুড়ি জন ভারতীয় সেনা জওয়ানের মৃত্যু হয়েছিল, সেদিনটি ছিল ১৫ই জুন। ফলে, ভারত-চীন সীমান্ত সংঘর্ষের পরেও চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক একেবারে ছিন্ন করতে পারেনি ভারত সরকার।