জ্যান্ত বিষধর সাপের কপালে সিঁদুর লেপে ফুল দিয়ে পূজা করা হয় এই গ্রামে

45
জ্যান্ত বিষধর সাপের কপালে সিঁদুর লেপে ফুল দিয়ে পূজা করা হয় এই গ্রামে

সাপের কথা শুনলে কিংবা সাপ দেখলেই ভয় হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হয় আমাদের। সাপের সঙ্গে এক ঘরে থাকা তো দূরের কথা, নিজের বাড়ির আনাচে কানাচে কোথাও সাপের হদিস মিললেই বাড়িছাড়া হওয়ার জোগাড় হোন সাধারণ মানুষ। তবে জানেন কি আজও এই পৃথিবীতে এমন একটি গ্রাম রয়েছে যে গ্রামে সাপের সঙ্গে সহাবস্থান করে থাকেন মানুষ! সেই সাপ আবার যেমন তেমন সাপ নয়, বিষধর কোবরার এক প্রজাতি যাকে চলতি ভাষায় বলা হয় কালনাগিনী।

পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও মঙ্গলকোটের কয়েকটি গ্রামে বিষধর কালনাগিনীর সঙ্গে সহাবস্থান করছেন সেখানকার মানুষেরা। এই গ্রামের বাসিন্দারা সাপকে দেবী জ্ঞানে পূজা করেন। সাপের উদ্দেশ্যে নিবেদিত এই বিশেষ পূজার নাম দেবী ঝঙ্কেশ্বরীর পুজো। ভাতারের বড়পোষলা ও ছোট পোষলা গ্রামের বাসিন্দারা এই পূজা করে থাকেন। জ্যান্ত বিষধর সাপের কপালে সিঁদুর লেপে ফুল দিয়ে তাদের পূজা করা হয়।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো এই গ্রামের বাসিন্দারা সাপের সঙ্গে সহাবস্থান করলেও সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার কিন্তু অনেক কম। বাড়ির উঠোনের আনাচে-কানাচে এমনকি শোবার ঘরেও বিষধর সাপের দেখা মেলে। তবে এই গ্রামের বাসিন্দারা তাদের উপস্থিতি নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন। বরং এখন তাদের উপস্থিতি গ্রামবাসীদের অনেকটাই গা সওয়া হয়ে গিয়েছে। সর্প বিশারদরা জানাচ্ছেন ঝাংলাই কোবরা প্রজাতির অতি বিষধর সাপ। তাহলে এই সাপের কামড়ে গ্রামবাসীদের মৃত্যুর হার এত কম কেন?

সর্প বিশারদদের একাংশের মতে এই প্রজাতির কোবরা কামড়ানোর আগেই বিষ ছিটিয়ে দেয়। যে কারণে সাপে কামড়ালেও বিষ মানুষের শরীরে প্রবেশ করে না। একমাত্র এই কারণেই এই গ্রামে সাপের কামড়ে মৃত্যুর হার এত কম বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। উল্লেখ্য গ্রামবাসীদের বিশ্বাস মনসা মঙ্গল কাব্যে বর্ণিত কালনাগিনী আসলে এই ঝাংলাই কোবরা। যে কালনাগিনী লখীন্দরকে কামড়েছিল। মুশারু, ছোটপোষলা, বড়পোষলা, শিকড় তোড়, পলসোনা এবং মইদান গ্রামেই একমাত্র এই প্রজাতির সাপের দেখা মেলে। যদিও আজ এই সাপ প্রায় বিলুপ্ত হওয়ার মুখে।