এক দিনে জমা পড়ল কোটি টাকারও বেশি অনুদান, যা দেখে হতভম্ব হয়ে গেল মন্দির কর্তৃপক্ষ

47
এক দিনে জমা পড়ল কোটি টাকারও বেশি অনুদান, যা দেখে হতভম্ব হয়ে গেল মন্দির কর্তৃপক্ষ

চলতি বছরের গোড়ার দিক থেকেই মহামারীর কারণে বন্ধ ছিল সমস্ত মন্দির মসজিদ গির্জা। সেপ্টেম্বর মাস থেকে আস্তে আস্তে সবকিছু আগের মত স্বাভাবিক হতে সমস্ত স্বাস্থ্যবিধি মেনে খোলা হচ্ছে মন্দির মসজিদ গির্জা। লকডাউনে দীর্ঘদিন মন্দির বন্ধ করার পর যখন অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি বালাজি মন্দির খোলা হল, তখন সেই মন্দিরের অনুদান দেখে রীতিমত হতভম্ব হয়ে গেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এক দিনে প্রায় কোটি টাকার বেশি অনুদান জমা পরেছে মন্দিরের কোষাগারে। এখনো পর্যন্ত বালাজি মন্দিরের একদিনে অনুদানের অর্থ ছিল ৫০ থেকে ৬০ লক্ষ। তবে ২৮ শে আগস্ট থেকে দর্শনার্থীর সংখ্যা এবং অনুদান দুটোই বাড়তে শুরু করে।

মহামারীর আগে মন্দিরের অনুদানের অর্থের সংখ্যা বর্তমান অনুদানের অর্ধেকেরও কম ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঈশ্বরের উপর অগাধ বিশ্বাস এবং আস্থা রেখে স্বাভাবিকভাবেই বেশ উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। মন্দিরের ট্রাস্ট বিশ্বাস করছেন যে, এই বছর মহামারী থেকে যত মানুষ সুস্থ অবস্থায় বের হতে পারবেন, ততোই মন্দিরে ভক্তের সংখ্যা আরো বেশি পরিমাণে বাড়বে।

মার্চ মাসে মহামারীর কারণে মন্দির বন্ধ করা হয়েছিল। এরপরে প্রায় ৮০ দিন পর আবার ১১ ই জুন মন্দিরের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছিল জনসাধারণের উদ্দেশে। যদিও মন্দিরটি কেবল মাত্র ৪ জুন খোলা হয়েছিল, প্রথম তিন দিন কেবলমাত্র মন্দিরের কর্মীরা এবং তাদের পরিবারের মন্দিরে প্রবেশ করার জন্য অনুমতি পেয়েছিল। মন্দিরের চত্তর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে দেবার পর ১১ জুন যখন মন্দির খোলা হয়েছিল জনসাধারণের উদ্দেশে, তখন একদিন এই প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার অনুদান এসেছিল মন্দিরের কোষাগারে। সেদিন মন্দিরে ভক্ত সংখ্যা ছিল ছয় হাজার।

মহামারীর প্রকোপ এই দেশে বাড়ার প্রথম থেকেই প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকার অনুদান জামা পরতে শুরু করে মন্দির কোষাগারে।মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে মন্দির চত্বরে বের হতে প্রায় ৫০-৬০ হাজার ভক্তের। তখনকার দিনে প্রায় তিন কোটির বেশি টাকা অনুদান হিসেবে মন্দির কোষাগারে জমা পড়তো।

লকডাউন খোলার পর, ১১ জুন মন্দির খোলা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। মন্দির খোলার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাস্টের কর্মচারীদের করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসার ফলে মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। জুন মাসে প্রায় ৮০ জন মন্দিরের কর্মচারী আক্রান্ত হয়ে পড়ে, সেই আগস্ট মাসে গিয়ে পৌঁছয় ৭৫০ এর কাছাকাছি। এই মন্দিরের প্রাক্তন প্রধান পুরোহিত ও করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বর্তমানে মন্দিরের গাইডলাইনের কারণে ষাট বছরের বেশী কোন কর্মচারী অথবা পুরোহিতদের মন্দিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয় না।

কিন্তু পরবর্তীকালে মন্দির আবার খুলে দেওয়ায় ভক্তের সংখ্যা একটুও কমেনি। তবে সবথেকে অবাক কান্ড হলো, মন্দিরের পুরোহিত থেকে কর্মচারী করণায় আক্রান্ত হলেও মন্দিরে কোটি-কোটি দর্শনার্থীদের মধ্যে কেউ কখনো করোনায় আক্রান্ত হননি।