সঠিক ভাবে সিঁদুর না পরলে হতে পারে অমঙ্গল! পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে জানুন সিঁদুর পড়ার সঠিক নিয়ম

11
সঠিক ভাবে সিঁদুর না পরলে হতে পারে অমঙ্গল! পৌরাণিক কাহিনী অবলম্বনে জানুন সিঁদুর পড়ার সঠিক নিয়ম

সামনে পুজো। মহামারী চিন্তা মাথায় রেখেও আমাদের নানা জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে যে কিভাবে আমরা এই পুজো নিজের মতো করে কাটাতে পারব। ষষ্ঠ থেকে শুরু করে দশমী, রোজ আমরা পুজোর আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে চাই। মা দুর্গাকে আবাহন করার জন্য পুরো এক বছর অপেক্ষা করে থাকলেও, তিনি কিন্তু আমাদের কাছে থাকেন মাত্র চারদিন। তাই খুব তাড়াতাড়ি চলে আসে দশমীর সেই দিন, যেদিন মা দুর্গাকে বিদায় জানাতে হয় চোখের জলে।

দশমীর দিন মানে সিঁদুর খেলা। এই সিঁদুর খেলার জন্য সারা বছর অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে থাকে লক্ষ লক্ষ বাঙালি মহিলারা।কিন্তু এই সিঁদুর খেলা কি শুধুমাত্র একটি খেলা, নাকি নিজেদের সৌন্দর্যকে বাড়িয়ে দেবার জিনিস। তা কিন্তু একেবারেই নয়। এর অর্থ জানা যাবে যদি একটু পুরান ঘাটা যায়।

হিন্দু নারীর সিঁদুর পরা নিয়ে গ্রহণযোগ্য একটি মতামত রয়েছে। লাল বর্ণের সিঁদুর কপালে ধারণ করার অর্থ হল উর্বরা শক্তির উপাসনা। অতি প্রাচীনকাল থেকে আমরা মাটি অথবা গাছ কে প্রাকৃতিক শক্তির প্রতীক বলে মনে করি। তাদের কাছে ছিল লাল রং সৃষ্টির প্রতীক। তাই প্রাচীনকাল থেকেই লাল সিঁদুর কে ভারতীয় নারীরা বেছে নিয়েছেন তাদের প্রসাধন হিসেবে। বিবাহিত মহিলাদের কপালে সিঁদুর দেবার অর্থ হলো, সেই সমস্ত নারীরা সন্তান ধারণের উপযুক্ত।

প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী, এই লাল সিঁদুর হল শক্তির প্রতীক। মানুষের শরীরে বিভিন্ন দেবতার বাস। এই দেবতাদের মধ্যে কপালে থাকেন স্বয়ং ব্রহ্মা। তাই এই সিঁদুর বিভাগে তুষ্ট করার জন্য কপালে দেওয়া হয়। শুধুমাত্র বাঙালি বিবাহিত মহিলা নয়, বহু শক্তি সাধক পুরুষেরাও কপালে সিঁদুর ব্যবহার করে থাকেন শুধুমাত্র ব্রহ্মাকে তুষ্ট করার জন্য।

হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী নারী হলো সেই শক্তি, তাই এইসব থেকে সম্মান প্রদর্শনের জন্য সিঁদুর কে ব্যবহার করা হতো। সেই ধারণা আস্তে আস্তে পরিবর্তিত হয়ে বিবাহিত মহিলার পরিচিতি হয়ে দাঁড়িয়েছে সিঁদুর। অবিবাহিত নারী দল কিন্তু কপালে সিঁদুর দিতে পারেন, কারণ এসব মহিলাই কিন্তু শক্তির উৎস। সিঁদুরের ব্যবহার করার ফলে মহিলাদের সম্মান বাড়ে।

হিন্দু শাস্ত্র মতে বিশ্বাস করা হয় যে, কপালে সিঁদুরের শক্তি দিয়ে স্বামীকে যে কোনো বিপদের হাত থেকে বাঁচানো যায়। তাই হিন্দু মতে প্রত্যেকটি বিবাহিত মহিলা কপালে সিঁদুর পরেন। তবে মনে রাখবেন যে, মাথায় সিঁদুর পরালো কিছু নিয়ম রয়েছে। ভুলভাবে সিঁদুর পরলে স্বামীর অমঙ্গল হতে পারে।

জেনে নিন কিভাবে আপনি সঠিক উপায়ে সিঁদুর পড়বেন।

শাস্ত্রমতে বিবাহিত মহিলারা যদি সিথির ঠিক মাঝামাঝি সিঁদুর লাগান, তাহলে স্বামীর অকাল মৃত্যু হয় না। যে সকল নারীরা মাথায় নামমাত্র সিঁদুর লাগান, মনে করা হয় যে, এমনটা করলে স্বামী এবং স্ত্রীর সম্পর্কে ভাঙ্গন ধরে।

অনেক মহিলার আবার সিঁদুর চুল দিয়ে ঢেকে রাখেন, এমনটা করলে নাকি সেই স্বামীরা সমাজে হারিয়ে যান। কর্মক্ষেত্র থেকে পরিবার কোথাও সম্মান পান না।

যেসকল মহিলারা মাথার এক সাইডে সিঁদুর পরেন, তাদের স্বামী তাদের থেকে দূরে চলে যান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সর্বদা মতবিরোধ লেগেই থাকে।

অনেক মহিলা কসমেটিক সিঁদুর ব্যবহার করেন, এমন করলে স্বামীর অমঙ্গল হয়।

এছাড়াও যদি আপনি সঠিক উপায়ে সিঁদুর পরেন মাথায়, তাহলে আপনার নার্ভ সুস্থ থাকবে। সিঁদুর মেডিটেশনে সাহায্য করে, ঘুমের সমস্যা দূর করে দেয়।