বাচ্চারা অবাধ্য হলে জানুন কি করে সঠিক পথে নিয়ে আসবেন

7
বাচ্চারা অবাধ্য হলে জানুন কি করে সঠিক পথে নিয়ে আসবেন

আজকাল আর ক’টা জয়েন্ট ফ্যামিলি আছে বলুনতো! আগেকার দিনে বাচ্চারা আরও পাঁচ জন কচিকাচাদের সাথে মিলেমিশে একই পরিবারের মধ্যে বেড়ে উঠত। আর আজকাল সেই জয়েন্ট ফ্যামিলিও নেই, আর না আছে পাঁচ জন বাচ্চার একসাথে মিলেমিশে বেড়ে ওঠার সুযোগ। এখনকার বাচ্চাদের কাছে পরিবার বলতে খুব বেশি ৩ থেকে ৪টে লোক। তাই অধিকাংশ বাচ্চাই একা একাই ছোট থেকে বড় হয়ে ওঠে। আর বাবা-মা দুজনেই যদি চাকরিজীবী হন তাহলে তো আর কথাই নেই, বাড়ির কাজের মেয়ে অথবা দাদু দিদার কাছেই বাচ্চারা থাকে। আর এই কারণেই বাবা মা এর শাসন তারা আর পায় কোথায়! বরং শাসনের থেকে দাদু দিদার আদর পায় বেশি। আর এইসব কারণেই অনেক সময় বাচ্চাদের স্বভাব খারাপ হয়ে যায়। যে কোনো জিনিস পাওয়ার জন্য খুব জেদ করতে থাকে। তবে সন্তান বাধ্য হোক, মা-বাবার সব কথা শুনে চলুক এটা কে না চায় বলুনতো! তাই আর চিন্তার কোনো কারণ নেই। আজকের প্রতিবেদনে আপনাদের জন্য রয়েছে এমন কয়েকটি উপায় যার মাধ্যমে খুব সহজেই অবাধ্য বাচ্চাকে সঠিক পথে নিয়ে আসতে পারবেন। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কি কি সেই উপায়।

অনেক মা-বাবার অভ্যাস থাকে কারণে অকারণে বাচ্চাকে সবসময় আদেশ করা -“এটা করো, ওটা করো, এটা করবে না, ওখানে যাবে না ইত্যাদি “।এসবের ফলে বাচ্চাদের মধ্যে নেগেটিভিটি তৈরি হয়। এছাড়া বাচ্চাকে তিরস্কার করার অভ্যেস যদি আপনার মধ্যে থাকে তাহলে যত শীঘ্র সম্ভব তা ত্যাগ করুন। সে কোনও বিষয় পারদর্শী না হলে, বাকিদের থেকে পিছিয়ে থাকলে তা বারবার তাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো একেবারেই উচিত নয়। তাই এই ভুল না করে ভালোভাবে তাকে বোঝান, সঠিক রাস্তা দেখানোর চেষ্টা করুন। তা না হলে বাচ্চাদের মনের ওপর খুব খারাপ প্রভাব পড়ে এবং তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।

জানেন তো বাচ্চাকে বেশি মারধর করলে সে আরও অবাধ্য ও জেদি হয়ে যায়। সে যদি অবাধ্য আচরণ করে তাহলে ভুল করেও আপনি মাথা গরম করবেন না। পরিবর্তে বুদ্ধি করে চলুন এবং তাকে বুঝিয়ে বলে ব্যাপারটি ম্যানেজ করুন।

অনেক সময় মায়ের সঙ্গে বাচ্চার একটা জেনারেশন গ্যাপ তৈরি হয় বলে বাচ্চার চাহিদা তার মা বুঝতে পারে না বা বোঝার চেষ্টা করেনা। আর এর থেকেই দুজনের মানসিকরতার মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়। তাই পরিস্থিতি বুঝে চার পাশের পরিবেশ বিচার করে বাচ্চাকে বোঝার চেষ্টা করুন, তার মনের কথা জানার চেষ্টা করুন। তবে এসব না করে যদি বাচ্চার সাথে আপনার মনের দূরত্ব তৈরি হয়ে যায় তাহলে কিন্তু সে অসম্ভব জেদি ও অবাধ্য হয়ে যাবে। তখন নিয়ন্ত্রণে আনা মুশকিল হবে।

বাচ্চার ইচ্ছেকে গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করুন। তবে আপনাকে বাচ্চার অকারণ জেদ মানার কথা বলছি না। বাচ্চার ইচ্ছেকে বুঝে যদি আপনি তার কথার গুরুত্ব দেন তাহলে দেখবেন খুব সহজেই নিজের সঙ্গে বাচ্চার দূরত্ব কমে আসবে। তা না হলে বাচ্চা যে একাকিত্বের সমস্যায় ভুগবে তার থেকেই সে জেদি ও অবাধ্য হয়ে যায়। তাই নিজের ব্যস্ত সিডিউল থেকে সামান্য সময় বের করে বাচ্চাকে সময় দিন। সেই সময় আর অন্য কাজ রাখবেন না। তবেই আপনার বাচ্চার সঠিক ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারবেন।