নির্ভয়ে দুধ পান করত! কুকুরের সাথে গভীর বন্ধুত্ব এই বালকের

17
নির্ভয়ে দুধ পান করত! কুকুরের সাথে গভীর বন্ধুত্ব এই বালকের

ফখরুদ্দিন মধুপুর পৌরসভার কাজি পাড়া এলাকার ছোট্ট শিশু। ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারের কারের কাজ করেন তার মা জমেলা।১৫ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় আলম উদ্দিন এর সাথে। এর পর তাদের ছাড়াছাড়ির পর মাথা গোঁজার ঠাই হয় রাস্তা। ছোট থেকেই রাস্তার পাশে পরে থাকত ফখরা। শিশুর খিদার আওয়াজ শুনলেই দৌড়ে যেতেন তিনি। কিন্তু বেশ কিছু দিন পর থেকে এক অদ্ভুত ঘটনার সাক্ষী হন তিনি। কুকুরের সঙ্গে বেশ ভাব জমে ওঠে ছত ফখরার।

একদিন তিনি লক্ষ করেন দুটি ছানার সঙ্গে কুকুরের দুধ পান করছে তার ছেলে। সে দৃশ্য দেখে তিনি অবাক হয়ে যান। জোর করে তার ছেলেকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এভাবে তিনি তার ছেলেকে কুকুরের কাছে যাওয়া বন্ধ করে দিলেন। কিন্তু সুযোগ পেলেই ফখরার কাছে ছুটে আসত কুকুরের দল এবং ছোট্ট ফখ রা নির্ভয়ে দুধ পান করত। দেখতে দেখতে ফখরার বয়স হয়ে ওঠে ৭ বছর। এদিকে কুকুরের সাথে ফখরার বন্ধুত্ব যেন আর বৃদ্ধি পেয়েছে। আকার ইঙ্গিতের মাধ্যমে কথা বলে তারা।

একসাথে কুকুরের সাথে বসে খাবার খায়। এদেখে গ্রামের লোক তীব্র প্রতিবাদ জানায়। কুকুরের সঙ্গে ও কুকুরের দুধ পান করে বর হয়ে অথা এই বালকের কথা সবখানে ছড়িয়ে যায়। তার মা জানায় একদিন ফক রা হারিয়ে যায়। ঠিক তার দুদিন পর তাকে সান্দার পট্টির জঙ্গলে সুস্থ সবল অবস্থায় পাওয়া যায় একদল কুকুরের সাথে। পাড়ার সব কুকুর এর সাথে তার বন্ধুত্ব তবে আদুরি ও বাবুলি যেন তার বেশি প্রিয়। জামেলা দেবি জানান ছেলেকে অনেক বুঝিয়েছেন। কুকুর না দেখলে ছেলে পাগল এর মত হয়ে যায়। মায়ের রান্না করা খাবার কুকুর এর সাথে ভাগ করে নেয় ফখরা। কুকুরের সাথে সর্বক্ষণ থাকায় ফখরার সাথে কেউ মেশে না।

মধুপুর পাইলট মার্কেট এর এক ব্যবসায়ী জানায় কুকুর এর সাথে থাকার ফলে ফখ রা খিপ্ত আচরণ করে। রাগ করলে গলা দিয়ে অস্বাভাবিক আওয়াজ বের করে। তার হাটা ও পা ফেলার ভঙ্গি যেন অবিকল কুকুর এর মত। তার মা জানায় ফখরার দ্রুত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু অর্থের সামর্থ্য নেই বলে জানান তিনি। ফখারর মানসিক চিকিৎসা করার জন্য তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।