স্বামী মরণাপন্ন বাঁচার আসা নেই! বীর্য সংরক্ষণ রাখতে আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

19
স্বামী মরণাপন্ন বাঁচার আসা নেই! বীর্য সংরক্ষণ রাখতে আদালতের দ্বারস্থ স্ত্রী

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত স্বামী। চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছেন, বেশি দিন আয়ু নেই তার। এমতাবস্থায় স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সকলে খুব হতাশ হয়ে যান। কিন্তু অসুস্থ স্বামীর স্ত্রী ততদিনে নিয়ে নিয়েছেন একটি সিদ্ধান্ত। আদালতের দ্বারস্থ হয়ে তিনি স্বামীর শুক্রাণু জমা করার কথা জানিয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, মরণাপন্ন স্বামীর স্ত্রী আদালতে জানান, আমি আমার স্বামীর বীর্য জমা রাখতে চাই। স্বামীর মৃত্যুর পর যাতে আমি সন্তানের জন্ম দিতে সক্ষম হই, তার জন্য এই সিদ্ধান্ত। আমাদের দুজনের ভালোবাসার শেষ চিহ্ন হিসেবে আমি আমার স্বামীর বীর্য জমা রাখতে চাই। আমার স্বামী করোনাতে আক্রান্ত হয়ে ভেন্টিলেশনে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন তাঁর জীবিত হওয়ার আসা খুব কম। তাই এই সিদ্ধান্ত।

ঘটনাটি ঘটেছে গুজরাটে। মরণাপন্ন স্বামীর স্ত্রী’র কাতর আর্জি আদালতের কাছে, দয়া করে আমার এই আরজি মেনে নেওয়া হোক। সম্প্রতি একটি সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির বিয়ে হয় গত বছরের অক্টোবর মাসে। তবে চার বছর আগে থেকেই তাদের সম্পর্ক ছিল। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মহিলার শশুরের হার্ট অ্যাটাক হবার ফলে তারা দেশে ফিরে আসেন। তার পরেই তার স্বামী করোনাতে আক্রান্ত হয়। ফুসফুস খুব খারাপভাবে সংক্রমিত হওয়ার ফলে সম্পূর্ণ পরিমাণে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন তার স্বামী। গত দুমাস ধরে তিনি ভেন্টিলেশনে আছেন এবং তিন দিন আগে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন স্বাস্থ্যের উন্নতি হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

খবরটি শোনার পর স্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন, স্বামীর শুক্রাণু জমা করে রাখবেন তিনি। পরবর্তীকালে তিনি তার স্বামীর সন্তানের মা হতে চান। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, এই ব্যাপারে স্বামীর অনুমতি ছাড়া তারা কোন রকম পদক্ষেপ নিতে পারবেন না। তারপরই সোমবার আদালতের কাছে আবেদন জানান স্ত্রী। আদালত স্ত্রীর পক্ষে রায় দেন এবং হাসপাতালকে সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। তবে আদালত যতদিন না পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন, ততদিন কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ করা যাবে না। আপাতত শুক্রাণু সংরক্ষণের কাজ করতে শুরু করেছেন চিকিৎসকরা।