স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জেলে থাকার সিদ্ধান্ত স্বামীর! থানায় লাগিয়ে দিলেন আগুন

70
স্ত্রীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে জেলে থাকার সিদ্ধান্ত স্বামীর! থানায় লাগিয়ে দিলেন আগুন

গার্হস্থ্য হিংসা নিয়ে কথা উঠলেই প্রথমেই শ্বশুরবাড়িতে শ্বশুরবাড়ি সদস্যদের কাছে মহিলাদের নির্যাতনের কথাই মনে আসে। তবে স্বামী অথবা শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের কাছে মহিলারা যেভাবে নির্যাতিত হন, ঠিক একইভাবে মহিলাদের কাছেও পুরুষেরা নিগৃহীত হন। স্ত্রী স্বামীর উপর নির্যাতন চালাচ্ছেন, এমন ঘটনা বিরল নয়। সম্প্রতি সেই ঘটনার নিদর্শন মিললো গুজরাটের রাজকোটের গান্ধীগ্রামে। স্ত্রীর কাছে অত্যাচারিত স্বামী বাড়িতে থাকার তুলনায় থানায় থাকা শ্রেয় মনে করলেন।

স্ত্রীর অত্যাচারে ওই ব্যক্তি এতটাই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন যে তিনি বাড়িঘর ছেড়ে থানায় গিয়ে থাকার মনস্থ করেন। থানায় থাকার জন্য অপরাধ করা প্রয়োজন। তাই অপরাধের পথ বেছে নিতেও পিছপা হননি তিনি। দীর্ঘদিন যাতে জেলে থাকা যায় তার জন্য থানায় আগুন লাগিয়ে দেন ওই ব্যক্তি। এমন ঘটনায় রীতিমতো অবাক হয়ে গিয়েছেন ওই থানার পুলিশ কর্মীরা। পুলিশকর্মীরা জানাচ্ছেন, ওই ব্যক্তি শুধু থানায় আগুন লাগিয়েছেন এমনটাই নয়। পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার জন্য তিনি ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়েছিলেন।

আইপিসি ৪৩৬ ধারায় সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ওই ব্যক্তিকে। গান্ধীগ্রাম থানার ইন্সপেক্টর খুমান সিং জানিয়েছেন যে ব্যক্তি এদিন থানায় আগুন লাগিয়ে দিয়েছেন তার নাম দেবজি ওরফে দেব চাভদা। বজরং ওয়াদিতে পুলিশ চৌকিতে আগুন লাগিয়েছেন ওই ব্যক্তি। ওই ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে যে বেশ কিছুদিন ধরেই অর্থনৈতিক কারণে স্ত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য চলছিল তার। স্ত্রীর সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এড়াতে তাই বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।

তিনি জানিয়েছেন স্ত্রীর উপর অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাড়িতে আর টিকতে পারছিলেন না। যে কারণে দীর্ঘ সময় যাবত থানায় থাকার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। তার জন্য থানাতে আগুন লাগিয়ে দেন তিনি। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৩৬ ধারা অনুযায়ী সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগের ওই ব্যক্তির সর্বোচ্চ ১০ বছর জেল হতে পারে। এখন তার পরিস্থিতি বিবেচনা করে আদালত কি সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই এখন দেখার।