ঘূর্ণিঝড় “যশ” আমফানের মত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারেঃ আবহাওয়া দপ্তর

17
ঘূর্ণিঝড়

গতবছরের আমফানের স্মৃতি এখনো পশ্চিমবঙ্গবাসীর কাছে স্পষ্ট হয়ে রয়েছে। আমফানের ফলে প্রভূত ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল রাজ্যবাসীকে। একদিকে করোনা অপরদিকে আমফান, এই দুইয়ের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হয়েছিল মানব জীবন। চলতি মরসুমেও নতুন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। সুন্দরবন উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় যশ। কাল ক্রমে শক্তি বৃদ্ধি করে যশ আমফানের থেকেও ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করতে পারে বলে জানাচ্ছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর।

চলতি বছরে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নিয়ে আতঙ্কিত রাজ্যবাসী। এরই মাঝে আবার বঙ্গোপসাগরের বুকে সৃষ্টি হয়েছে একটি নিম্নচাপ। যে নিম্নচাপ ক্রমাগত শক্তি বৃদ্ধি করে ঘূর্ণিঝড়ে রূপান্তরিত হচ্ছে। এভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে করতে ওই ভয়ংকর নিম্নচাপটি আগামী ২৬শে মে ঘূর্ণিঝড় রূপান্তরিত হয়ে পশ্চিমবঙ্গ এবং উড়িষ্যার উপকূলে আছড়ে পড়তে চলেছে।

আইএমডির তরফ থেকে জানানো হয়েছে, অচিরেই ঘূর্ণিঝড় যশ গতবছরের ঘূর্ণিঝড় আমফানের মত ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। আগামী ২২শে মে এই ঘূর্ণিঝড় উত্তর আন্দামান এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় নিম্নচাপ সৃষ্টি করতে পারে। ৭২ ঘন্টার মধ্যেই এই নিম্নচাপ ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় এ রূপান্তরিত হতে পারে। তবে আইএমইডির আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড় সমুদ্রের উপর দিয়ে অত্যন্ত দ্রুত বেগে এগিয়ে আসবে।

এর ফলে ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকছে। কারণ সমুদ্রের উপর ঘূর্ণিঝড় যত কম সময়ের জন্য অবস্থান করবে, এর তীব্রতাও ততটাই কম হবে। তাই আপাতত আশার আলো দেখাচ্ছেন আইএমডি বিশেষজ্ঞরা। পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর অবশ্য ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে আগে থেকেই ব্যবস্থা গ্রহণ করে রাখছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্প্রতি এই নিয়ে প্রশাসনিক অধিকর্তাদের সঙ্গে একটি জরুরি বৈঠকের আয়োজনও করেছিলেন।