বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে বিভৎস্যভাবে ভাবে পুরে গেছে শরীর, সেই মেয়েকেই বিয়ে করতে রাজি হবুবর

11
বিদ্যুৎপৃষ্ট হয়ে বিভৎস্যভাবে ভাবে পুরে গেছে শরীর, সেই মেয়েকেই বিয়ে করতে রাজি হবুবর

ভালোবাসা অন্ধ। না ঠিক অন্ধ নয়, একে অপরের প্রতি অগাধ বিশ্বাস এবং ভালোবাসা থাকলে যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মানুষ জয় করতে পারে। ঘটনাটি শুনলে মনে হবে যেন, কোন সিনেমার স্ক্রিপ্ট শুনছেন। তবে এটি কোন সিনেমার স্ক্রিপ্ট নয়, একেবারে বাস্তব ঘটনা। পর্দার অমৃতা সিং এবং শাহিদ কাপুরের মত এই ঘটনার নায়ক নায়িকা হলো চিরাগ এবং হিরোল।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠিক কিছুদিন আগে। বিবাহের কিছুদিন আগেই কাপড় শুকানোর জন্য জানলার ধারে গিয়েছিল হীরোল। জানলা দিয়ে হাত বার করতেই বিদ্যুতের তারে তার হাত লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে তার হাত এবং পায়ের মধ্যে বিদ্যুৎ ছড়িয়ে যায়, এবং সঙ্গে সঙ্গে হাত এবং পা পুড়ে যায় বিভৎসভাবে।

সঙ্গে সঙ্গে মেয়েটিকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই শুরু হয় চিকিৎসা। কিছুদিন চিকিৎসা করার পর চিকিৎসকরা হাল ছেড়ে দেন। চিকিৎসকেরা মেয়েটিকে আমেদাবাদের সিভিল হাসপাতালে স্থানান্তরিত করার পরামর্শ দেন।

সেখানে ডাক্তাররা জানান যে, যদি প্রাণ বাঁচাতে হয় তাহলে ডান হাত এবং দুটি পায়ের হাটু কেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে। দুর্ঘটনা ঘটার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাকে যদি নিয়ে আসা যেত তাহলে পরিস্থিতি অন্য হত।

এই কথা শোনার পর স্বাভাবিকভাবেই মেয়েটির অভিভাবকেরা হতাশ হয়ে পড়েন। এইভাবে তার মেয়ের কোনদিন বিয়ে হবে না, এই কথা চিন্তা করতে থাকে মেয়েটির অভিভাবকেরা। কিন্তু এমতাবস্থায় চিরাগ বলে যে, সে হিরলকেই বিয়ে করবে। চিরাগের এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন তার বাবা-মা।

হিরল জানান, তিন থেকে চারদিন আমার কোনো জ্ঞান ছিল না। যখন জ্ঞান আসে তখন বুঝতে পারি, আমার হাত এবং পা কেটে ফেলা হবে। আমি মানসিকভাবে খুব ভেঙ্গে পড়ি। কিন্তু চিরাগের সিদ্ধান্ত জানার পর মনে হল, এখনো পৃথিবীতে ভালো মানুষ আছে। আমি আমার হবু স্বামীর জন্য খুবই গর্বিত।