ব্রেক আপের পর কীভাবে নিজেকে সামলে নেবেন? জেনে নিন কিছু টিপস

35
ব্রেক আপের পর কীভাবে নিজেকে সামলে নেবেন? জেনে নিন কিছু টিপস

ব্রেক-আপ অর্থাৎ সম্পর্কের বিচ্ছেদ৷ অনেক সময় মানুষ একটি সম্পর্কের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে থাকতে থাকতে, তা অভ্যাসে পরিণত হয় এবং গভীরভাবে সে সম্পর্কের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে ফেলে৷ দীর্ঘ দিন পছন্দের মানুষের সঙ্গে থাকা, ছোট ছোট মুহূর্তগুলোকে ভাগ করে নেওয়া, ফিউচার প্ল্যানিং সব কিছুর শেষ হয় ব্রেক আপে এসে। আর ব্রেক আপের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা আমাদের সকলের জন্যই বেশ কষ্টের। সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর হঠাৎই ভীষণ রকম অবসাদ মানুষকে গ্রাস করে, নিজেকে অবহেলা করতে শুরু করে। এটাই স্বাভাবিক৷

কিন্তু যে কোনও সম্পর্কে শুরু যখন হচ্ছে তখন তো তার একটা শেষ থাকবেই, এই কথাটা যত তাড়াতাড়ি আমরা মেনে নিতে পারব তত দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে পা রাখা সম্ভব। ব্রেক আপের এই কয়েকটি স্তরে খুব সচেতন ভাবে নিজেকে সামলে রাখতে হয়। আসুন জেনে নেওয়া যাক এই পাঁচটি স্তর কী কী!

ব্রেক আপ অস্বীকার করা: ব্রেকআপের পর পরই সাধারণত বাস্তবটা মেনে নেওয়া সত্যিই খুব কষ্টকর হয়ে ওঠে, অনেকে অবশ্য তা মানতেও চান না। অনেকেই ‘না না আমাদের ব্রেক আপ হয়নি, আমরা জাস্ট ছোট একটা ব্রেক নেব বলে ঠিক করেছি’ বা ‘তেমন কিছুই হয়নি, সামান্য একটু ঝামেলা হয়েছে’ এই ধরনের কথা বলে নিজেকে সান্ত্বনা দিতে চান, এতে হয়তো কিছুক্ষণের জন্য কঠিন বাস্তব থেকে দূরে থাকা সম্ভব, কিন্তু পুরোপুরি ভাবে নয়।

মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া: ব্রেক আপের পরবর্তী সময়কার খুবই সাধারণ লক্ষণ হল নিজেকে নানান প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুলিয়ে রাখা। সব কিছু জেনেও অনেকে এই সময় ছেড়ে আসা সম্পর্কের ভুল-ভ্রান্তিগুলো মনে মনে শুধরে নিতে চান। যেমন ‘ও ফিরে এলে আমি আর অশান্তি করব না’ বা ‘আমি ওর ইচ্ছেগুলো পূরণ করব’ এই ধরনের হাজার প্রমিস করে থাকি আমরা।

কষ্ট পাওয়া: এই স্তরের সবচেয়ে কমন চিন্তা ‘আমার সঙ্গেই কেন সব সময় এমনটা হবে?’ বা ‘আমি কি আর কখনও ভালোবাসতে পারব?’। কিন্তু বাস্তবে এই রকম হয় তো প্রায় প্রত্যেকের সঙ্গেই কোনো না কোনো সময় হয়েছে। অর্থাৎ এক্ষেত্রে আমি যে একা নই বা বাস্তব আমাকেও মেনে নিতে হবে এই ধরনের পজিটিভ চিন্তা রাখতে পারলে ভালো। তার পর কিছু দিনের মন খারাপ, ঘুম না আসা, কান্নাকাটি সব কিছু কাটিয়ে একদিন আপনিও ঠিক স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসবেন।

রেগে যাওয়া: যাঁরা সরাসরি নিজের ইমোশন দেখাতে পারেন না অনেক ক্ষেত্রেই তাঁরা রাগের মাধ্যমে সেটা প্রকাশ করেন। তবে মনে রাখতে হবে জীবন আমাদের, তাই কোনোভাবেই যেন সেই রাগ মাত্রাতিরিক্ত না হয়। নিজেকে সামলে রাগ দেখিয়ে যদি কষ্ট ভুলতে পারেন তবে কোনো ক্ষতি নেই।

বাস্তবকে মেনে নেওয়া: অনেক ইমোশন, রাগ সব কিছুর শেষে কিন্তু আমরা ধীরে ধীরে উপলব্ধি করতে শুরু করি, ‘যা হয়েছে, হয়েছে। হয়তো এমনটা হওয়ারই ছিল। যে সম্পর্কটা ভেঙেছে, সেটা হয়তো কখনই হবার ছিল না৷ আজ না কাল সেটা নষ্ট হতই হত’। এই স্তরে এসে সব কিছু ভুলে আবার পুরনো স্বাভাবিক জীবন ফিরে যাওয়ার পালা!