প্রায় 100 বছর যাবৎ বনস্পতি ঘি ভারতের বাজারে কীভাবে স্বমহিমায় বিরাজ করছে? জেনে নিন

9
প্রায় 100 বছর যাবৎ বনস্পতি ঘি ভারতের বাজারে কীভাবে স্বমহিমায় বিরাজ করছে? জেনে নিন

স্বাদ-গন্ধ-বর্ণে ভারতীয় খাবারের মর্মই আলাদা। তেল-মসলা, ঘি সহযোগে ভারতীয় খাবারের স্বাদ অতি লোভনীয়। বর্তমানে লোভনীয় খাবার প্রস্তুত করতে ব্যবহার করা হয় বনস্পতি ঘি‌ বা ডালডা। 1937 সালে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার নামের একটি কোম্পানি ভারতের বাজারে প্রথম বনস্পতি ঘি নিয়ে আসে।

1930 সালের আগে একটি ড্যাচ কোম্পানি থেকে বনস্পতি ঘি আমদানি করতো কাশেম দাদা নামের এক ব্যক্তি। তখন দেশি ঘি বা পরিষ্কার মাখনের সস্তা বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হতো বনস্পতি ঘি। মোষের দুধ বা গরুর দুধ থেকে তৈরি করা হতো এই ঘি। উপনিবেশিক দিনে ব্রিটিশ ভারতে দেশি ঘি ব্যয়বহুল পণ্য হিসেবে বিবেচিত হতো। তখন ভারতীয় পরিবার ঘি কম ব্যবহার করত। ডালডা হলো হাইড্রোজেনেটেড উদ্ভিজ্জ তেল। রান্নার সময় এর থেকে এক অদ্ভুত গন্ধ পাওয়া যেত।

সে সময় ব্রিটিশ কোম্পানি হিন্দুস্তান ইউনিলিভার নেদারল্যান্ডের কোম্পানি সঙ্গে হাত মেলায়। এই দুই সংস্থা বনস্পতি ঘি তৈরির ব্যবসা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে সে সময় কোম্পানির নাম নিয়ে তাদের মধ্যে দ্বিধা ছিল। তখন ডালডা নামে নতুন ব্র্যান্ডের অধীনে হাইড্রোজেনেটেড তেলের নতুন শ্রেণীর জন্ম হয়।

এই সময় কাসিম দাদা তার আমদানিকৃত পণ্য দাদা বনস্পতি বলে বিক্রি করতে থাকে। লিভার ব্রাদার্স তাকে সাহায্য করে অনুরোধ করে যাতে কোম্পানিতে লিভার ব্রাদার্স এর কাছ থেকে এল অক্ষরটি ডালডা তৈরির জন্য নতুন ব্যান্ডের মধ্যে প্রবেশ করে। কাসিম দাদা নাম পরিবর্তনে রাজি হয়েছিলেন। এই বনস্পতি ঘি আসলে রান্না করার সময় তীব্র গন্ধ উৎপন্ন করে না। তাই ভারতীয়রা সহজেই এর প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকেন। সেই থেকে সগর্বে প্রায় 100 বছর যাবৎ বনস্পতি ঘি ভারতের বাজারে স্বমহিমায় বিরাজ করছে।