নিউমোনিয়া হলে কি করে সামলাবেন নিজেকে, দেখে নিন উপায়

16
নিউমোনিয়া হলে কি করে সামলাবেন নিজেকে, দেখে নিন উপায়

ফুসফুসের প্রদাহজনিত একটি রোগ হল নিউমোনিয়া। সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক সংক্রমণের কারণে নিউমোনিয়া হয়। নিউমোনিয়া মৃদু বা হালকা থেকে জীবন হানিকরও হতে পারে। নিউমোনিয়া থেকে ফ্লু হবারও সম্ভাবনা থাকে। নিউমোনিয়া সাধারণত বয়স্ক ব্যক্তিদের, যারা দীর্ঘদিন রোগে ভুগছেন অথবা যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল বা কম তাদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে তরুণ, অল্প বয়স্ক, স্বাস্থ্যবান লোকদেরও নিউমোনিয়া হতে পারে। ফুসফুসে স্ট্রেপটোকক্কাস জাতীয় ব্যাকটেরিয়া কিংবা শ্বাসযন্ত্রের সিনসিশিয়াল ভাইরাস সংক্রমণ ঘটালে ফুসফুস ফুলে ওঠে, ভরে ওঠে পুঁজে বা তরল পদার্থে, যা অক্সিজেন গ্রহণ করে নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। তখন ফুসফুসে প্রদাহ হয়।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সুবর্ণ গোস্বামীর মতে, ক্রমিক ঠান্ডা লাগা, বুকে শ্লেষ্মা জমে থাকার ফলে এই অসুখ ছড়ায়। শরৎকালে আবহাওয়া পরিবর্তনের ফলে, অর্থাৎ হটাৎ ঠান্ডা পরে যাওয়ার পরে এই অসুখ হয়। ঠান্ডা লাগলেই যে নিউমোনিয়া হবে তা কিন্তু নয়, যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, মূলত, বয়স্ক ও শিশুরাই এই রোগে বেশি আক্রান্ত হয়। নিউমোনিয়া হলে, জ্বর আসে, ওষুধ খেলে কমে যায়। কিন্তু ওষুধের প্রভাব কাটালেই আবার শুরু হয় জ্বর। ১০৩-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত উঠতে পারে জ্বর। সঙ্গে হবে, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মাথা যন্ত্রণা, গা গোলানো, ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়া, খাওয়া দাওয়ায় অনীহা। নিউমোনিয়া রোগীকে ছোঁয়ার ফলে এই রোগ ছড়ায় না, তবে কাশি বা হাচির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।
আসুন দেখে নেওয়া যাক কী করে নির্ণয় করবেন এই রোগ।

জ্বর, সর্দি, কাশি দিয়ে শুরু হয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জ্বর, সর্দি, কাশির প্রকোপ বাড়তে থাকে। শুরু হয় শ্বাসকষ্ট। ওষুধ খেলে কমে যায়, কিন্তু ওষুধের প্রভাব কেটে গেলেই হু হু করে বাড়তে থাকে জ্বর। বাড়তে থাকে বুকের ব্যথা। অবস্থা বেশি গুরুতর হলে কাশির সঙ্গে রক্ত বেরিয়ে আসতে পারে। গায়ে কাঁপুনি শুরু হয়, ঘাম হয়, মাথা ব্যথা শুরু হয়, সঙ্গে মাংসপেশিতেও ব্যথা শুরু হয়। অনুভূত হয় ক্লান্তি।

এই লক্ষণগুলো দেখা দিলেই তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের কাছে যাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা করবেন। নিউমোনিয়া রোগের যেসব সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, সেগুলি নিচে আলোচনা করা হল।

ধূমপান থেকে দূরে থাকতে হবে। ধুপকাঠির ধোয়া, মশা মারার কয়েল, ধুনো রোগীর ঘরে রাখবেন না। রোগীকে প্রচুর পরিমানে জল পান করাবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ খাওয়াবেন। জ্বর কমানোর ওষুধ বার বার খাইয়ে জ্বর কমানোর চেষ্টা করবেন না। রোগীকে ঠান্ডা আবহাওয়া থেকে দূরে রাখুন। হার্ট ও লিভারের রোগে আক্রান্ত রোগী ও ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিউমোনিয়া নিরোধক টিকা নিতে পারেন। ২ সপ্তাহের মধ্যে এই রোগ থেকে সেরে ওঠেন রোগীরা। কিন্তু এর থেকে বেশি সময় হলেই রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করান।

নিউমোনিয়ার টিকা দু’ধরনের হয়। বছরে একবার হিসেবেও নেওয়া যায় আবার ৫ বছর অন্তর অন্তর নেওয়া যায়। শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিউমোনিয়া প্রতিরোধক টিকা নিতে পারেন।