বাড়ির ছেলে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে বন্ধুক! কিন্তু কেন?

5
বাড়ির ছেলে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে বন্ধুক! কিন্তু কেন?

প্রভু ভক্ত কুকুর। মানুষের সঙ্গে কুকুরের আলাদাই ভালো সম্পর্কের কথা বহুবার আমরা দেখেছি। কিন্তু পথ কুকুরের তাণ্ডব যে এতটাই বেড়ে যেতে পারি তা কখনো কল্পনা করতে পারিনি সাধারণ মানুষ। কিছুদিন আগেই সুপ্রিম কোর্টের এক বিচার প্রতি প্রস্তাব দিয়েছিলেন, আপনি যদি কোন পথ কুকুরকে পরিচর্যা করেন, সেই পথে কুকুর যদি কাউকে কামড়ায় তাহলে সেই দায় আপনার। ঠিক এমনই পরিস্থিতিতে কেরালায় উঠে এলো এমন একটি ঘটনা যা শুনলে আপনি অবাক হয়ে যাবেন।।

কেরালার স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজেদের বাড়ির ছেলে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিতে ব্যবহার করতে হচ্ছে বন্ধুক। পথে চলাফেরা করার সময় যাতে কোনভাবে কুকুর আক্রমণ না করতে পারে তাই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৫০ বছর বয়সী সমীর বাবু কেরলের বাসিন্দা। হঠাৎ বন্দুক নিয়ে স্কুলে পৌঁছে দেওয়ার কি দরকার পড়লো? জিজ্ঞাসা করায় তিনি বলেন, গত কিছুদিন ধরে পথ কুকুরদের উৎপাত ভীষণভাবে বেড়ে গেছে। এক সপ্তাহের মধ্যে অন্তত ১০ জন কে পথ কুকুর কামড়ে দিয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই মানুষ রাস্তায় চলাফেরা করতে ভয় পাচ্ছেন।

রাস্তায় যাতে কোন কুকুর আক্রমণ না করতে পারে তাই পড়ুয়াদের স্কুলে পৌঁছে দিতে যাওয়ার সময় বন্দুক নিয়ে বের হতে হচ্ছে বাবা-মাকে। এমনই দৃশ্য দেখা যাচ্ছে কেরলের প্রায় প্রত্যেক অঞ্চলে। কিছুদিন আগে অন্য একটি অঞ্চলে স্কুল ছাত্রের ওপর হামলা করেছিল একদল কুকুর যা সোশ্যাল মিডিয়াতে ভাইরাল হয়ে গিয়েছিল। এছাড়াও কুকুরের কামড়ে মৃত্যু হয়েছিল এক কিশোরীর। কুকুরের কামড়ে এমনই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল সে, হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতে মৃত্যু হয় তার।

কিছুদিন আগেই কেরল এবং মহারাষ্ট্রে পাগল হয়ে যাওয়া কুকুরদের মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম করে ডিভিশন বেঞ্চ প্রস্তাব দেয়, যদি কোন কথোপুকুর কাউকে কামড়ায় তাহলে যে ব্যক্তি তাদের খেতে দেন তাকে দায়িত্ব নিতে হবে। পথ কুকুরকে টিকাকরণের দায়িত্ব নিতে হবে সেই ব্যক্তিকে। কিন্তু এইভাবে অতিরিক্ত পথ কুকুর বেড়ে যাওয়ায় ভীষণভাবে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ মানুষ।