২৬ মে আছড়ে পড়তে পাড়ে যশ! প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন

15
২৬ মে আছড়ে পড়তে পাড়ে যশ! প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন

গত বছর মে মাসে প্রকাণ্ড ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব এখনো আমাদের কাছে তাজা। তার মধ্যেই আরো একবার এসে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় যার নাম দেওয়া হয়েছে ইয়াশ। শুনতে পাওয়া যাচ্ছে যে, ২৬ মে বিকেলে নয় সকালে উঠে এবং পশ্চিম উপকূলে ল্যান্ডফল হবে এই ঘূর্ণিঝড়ের। এছাড়া দুই ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরের একাধিক জায়গায় ক্ষয় ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।

এই প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার আরো একবার নবান্নে আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন যে, আমাদের কাছে গত বছর থেকে যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ অথবা মহামারী চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। কিন্তু আমরা সব সময় যুদ্ধ জয় করার চেষ্টা করেছি। এবারেও সব জেলার জেলাশাসক কে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। সুন্দরবন এবং দীঘা উপকূলীয় এলাকার কাছাকাছি সব্বাইকে ওই দিন বাড়ির বাইরে বেরোতে বারণ করা হয়েছে। ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট থেকে যা করার সব করা হবে। আমি নিজে আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছি।

মুখ্যমন্ত্রী আরো বলেন যে, কেন্দ্র রাজ্যের পাওনা কিছুই দেয়নি। একটা আমফান চলে গেছে। আরো একটি আসার অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিবছর একটি করে দুর্যোগ আমাদের সামাল দিতে হচ্ছে। তবে প্রশাসনিক কর্তারা সবদিক দিয়ে প্রস্তুত রয়েছেন।

এদিকে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছেন যে, বাইশে মে নাগাদ উত্তর আন্দামান সাগর এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর নিম্নচাপ তৈরি হতে চলেছে। যেটি ঘূর্ণিঝড় পরিণত হবে। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা গনেশ চন্দ্র দাস বলেছেন যে, নিম্নচাপ হোক অথবা ঘূর্ণিঝড়, সেটি প্রতিনিয়ত ও তার অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। আপাতত আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, ২৬ তারিখ এটি বাংলা উপকূলে পড়তে পারে।

এই নিম্নচাপ এর ফলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে রাজ্যের উপকূল এর জেলাগুলিতে। কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত হবে। তবে এই মুহূর্তে রাজ্যে গরম কমার কোন সম্ভাবনা নেই। বৃষ্টিপাত হলেও তাপমাত্রা খুব একটা কমবে না। ঝড়ের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৬৫ কিমি, যদি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়ে যাবে। অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশা পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে পঁচিশে মে বিকেল নাগাদ ঝড় আছড়ে পড়তে পারে।

আবহাওয়া দপ্তর এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত কেউ যেন গভীর সমুদ্রে না যান। যারা ইতিমধ্যে সমুদ্রে আছেন তারাও যেন ফেরত চলে আসেন অবিলম্বে।