আগামী ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে গণেশ পুজো! তার আগে জেনে নিন এই কথা গুলি

6
আগামী ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে গণেশ পুজো! তার আগে জেনে নিন এই কথা গুলি

প্রত্যেক দেবদেবীর আগে গণেশের পুজো করা হয়। তার কারণ আমরা সকলে জানি। গণেশ পুজো এলে মনে হয় আকাশে বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে আগমনী সুর। সকল দেবতার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল গণেশ চতুর্থী। ভাদ্রমাসের চতুর্থী থেকে চতুর্দশী তিথি পর্যন্ত গণেশ উৎসব পালন হয়ে থাকে। চতুর্দশীর রাতে বিসর্জন করা হয় গণেশের। চলতি বছরে আগামী শুক্রবার অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে গণেশ পুজো, অর্থাৎ দোড়গোড়ায় এসে গেছে সমস্ত পূজার অনুষ্ঠান।

এই গণেশ চতুর্থীর দিন গণেশের জন্মদিন হিসেবে পালন করা হয়। নিয়ম নিষ্ঠা অনুযায়ী গণেশের আরাধনা করা হয়। নিষ্ঠার সহিত গণেশের পুজো করা হলে সমস্ত দুঃখ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। মূলত মধ্যাহ্নের সময় সব থেকে বেশি উপযুক্ত বলে মনে করা হয় গণেশ পুজোর জন্য।

চলুন জেনে নেওয়া যাক, এই বছর গণেশ চতুর্থীর বিশেষ মুহূর্ত কখন পড়েছে

চতুর্থী রীতির সূচনা হবে আগামীকাল মধ্যরাত ১২:১৭ থেকে। শুক্রবার ১০ সেপ্টেম্বর রাত ৯:৫৭ মিনিট পর্যন্ত এই শুভক্ষন থাকবে। পুজোর মধ্যাহ্ন শুভক্ষণ শুরু হবে সকাল ১১:৩০ থেকে এবং শেষ হবে ১:৩০ এ পর্যন্ত। নিয়ম অনুযায়ী, এই দিন চাঁদ দেখা যাবে না। গণেশ চতুর্থী দিন চাঁদ দেখা শাস্ত্র মতে একেবারেই নিষেধ।

শাস্ত্র মত অনুযায়ী, গণেশ চতুর্থীর দিন চাঁদ দেখলে কলঙ্ক লাগতে পারে। পুরান মতে, গণেশ বাহক মুষকের ওপর বসে খেলা করছিল। হঠাৎ করে মূষক একটি সাপ দেখে এবং ভয় পেয়ে লাফিয়ে ওঠে। সেই সময়ে গণেশের ভারসাম্য টলমল হয়ে যায়। তাড়াতাড়ি গণেশ এদিক ওদিক তাকিয়ে দেখে কেউ তাকে দেখছে কিনা। সেই সময় উপস্থিত না থাকলেও সেখানে উপস্থিত ছিলেন চন্দ্র দেব। গণেশের এহেন অবস্থা দেখে হাসতে শুরু করে দেন তিনি।

ব্যাপারটি গণেশের একেবারেই ভাল লাগেনি। তিনি রেগে গিয়ে চন্দ্র দেবকে অভিশাপ দেন, যে রূপের অহংকার করেন চন্দ্রদেব সেই রূপ তার থেকে কেড়ে নেওয়া হবে। পরে চন্দ্রদেব নিজের ভুল বুঝতে পারেন, এবং ক্ষমা চেয়ে নেন গণেশের কাছে। অন্যদিকে চন্দ্রদেব অদৃশ্য হয়ে থাকার জন্য পৃথিবীর মানুষের ভোগান্তির শেষ ছিল না, তাই সর্ব দিক বিবেচনা করে গনেশ চন্দ্র দেবকে মুক্তি দিলেন কিন্তু তিনি বললেন, প্রতি এক মাসে সম্পূর্ণভাবে অদৃশ্য হয়ে যাবেন চন্দ্র দেব। আবার অল্প অল্প করে তাকে দেখা যাবে এক মাস পরে। এইভাবে জীবন অতিবাহিত হবে তার। তাই গণেশ চতুর্থী দিন চাঁদের দিকে তাকানো যায় না।

মহাদেব এবং মাতা পার্বতীর খুব স্নেহের পুত্র হলেন গণেশ। গণেশের আরাধনা করলেই মাতা পার্বতী এবং মহাদেব সন্তুষ্ট হন।সিদ্ধিদাতা গণেশের পূজার মূল উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় জলের পাত্র, পঞ্চামৃত, নারকেলের জল, লাল কাপড়, সুপারি, লবঙ্গ, গঙ্গাজল এবং সাদা ফুল। প্রসাদ হিসেবে অবশ্যই রাখতে হবে লাড্ডু।