মহামারীর কারণে শতকরা ৪৪% ভারতীয় নাগরিক বেশি রাত অব্দি জেগে থাকে, বলছে সমীক্ষা

8
মহামারীর কারণে শতকরা ৪৪% ভারতীয় নাগরিক বেশি রাত অব্দি জেগে থাকে, বলছে সমীক্ষা

গতবছরও যে ভারতবাসীর রাত হতে না হতেই ক্লান্তিতে চোখে চলে আসতো ঘুম, চলতি বছরে এমনই জীবনযাত্রার পরিবর্তন হয়ে গেল যে, ভারতবাসীর চোখ থেকে ঘুম উড়ে গেল। সর্বভারতীয় একটি সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে যে, শতকরা ৪৪% ভারতীয় নাগরিক বিগত কয়েক মাসে বেশি রাত অব্দি জাগতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছেন।

এর পেছনে যে একমাত্র দায়ী আমাদের এই মহামারী, তা বলাই বাহুল্য। “হেলথকেয়ার প্লাটফরমটি” জানিয়েছেন যে, বিগত কয়েক মাসে শারীরিক ক্লান্তি কম হবার কারণে মানুষ আগে থেকে অনেকটাই ঘুমোচ্ছেন কম। ফলে বাড়ছে রাত জাগার প্রবণতা।
চিকিৎসকদের একাংশের বক্তব্য অনুযায়ী, সারাদিন ঘরবন্দি থাকার কারণে মানুষের নিয়মিত কোনরকম পরিশ্রম হচ্ছে না। নেই কোন অফিসের তাড়া, নেই কোন স্কুলের তাড়া, তাই অনায়াসে সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা এখন অভ্যেসের তালিকায়। এরপরেও সারাদিনে শুধু বাড়ির কিছু ন্যূনতম কাজ করা ছাড়া বাহ্যিক কোন পরিশ্রম হচ্ছে না মানুষের। ফলে কমে আসছে ঘুমের সময়।

সমাজ বিজ্ঞানীদের একাংশের মত অনুযায়ী আবার, ঘরে বসে যাওয়ার কারণে পেশাগত নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভারতের অধিকাংশ মানুষ। সোজা ভাষায় যাকে আমরা বলি, টেনসনে ঘুম আসছে না। অনেক ক্ষেত্রে এটাও ঘটছে মানুষের সাথে। বর্তমান পরিস্থিতি এমন হয়ে গেছে যে, মানুষ আজ জানে না কাল তার সঙ্গে কি হতে চলেছে, এমতাবস্থায় চিন্তায় চিন্তায় ঘুম এর অবস্থা বেহাল হয়ে গেছে।

এদিকে আবার ঘুমের সময় পিছিয়ে যাওয়ায় দেখা যাচ্ছে যে টেলিভিশনের অধিকাংশ রাতের অনুষ্ঠানে টিআরপি আগে থেকে অনেকটাই বেড়ে গেছে। মোবাইলে বিনোদন চর্চা রাতে দিকেই হচ্ছে সর্বাধিক। সকালবেলা উঠে তাড়া না থাকার কারণে রাতের দিকে মানুষ ঘুমোচ্ছেন দেরি করে।

ভারতের মধ্যে অন্যান্য নারীদের তুলনায় বাঙালিরা এমনি একটু ঘুম কাতুরে। সমীক্ষায় প্রকাশ যে, আগের থেকে দুপুর বেলা ঘুমানোর অর্থাৎ ভাতঘুমের প্রবণতা অনেকটাই বেড়ে গেছে বাঙালির। work-from-home এই কালচারে অন্যদের তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে বাঙালি। এদিক থেকে আবার সর্বোচ্চ স্থান অধিকার করেছে বেঙ্গালুরু, তারপর যথাক্রমে দিল্লি এবং মুম্বাই।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে যে, গত বছরের তুলনায় এ বছরে ভারতের মানুষদের নিত্য জীবনে অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। তার মধ্যে যদি মন্দ গুলো বর্জন করে ভালো গুলো কেঅভ্যাসে পরিণত করে দেওয়া যায় তাহলে আমরা একটি সুস্থ এবং স্বাভাবিক জীবন-যাপন করতে পারব।