গুরুর কথা মেনে রাতারাতি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে বেরিয়ে গেছিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী মাধবী

11
গুরুর কথা মেনে রাতারাতি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে বেরিয়ে গেছিলেন দক্ষিণী অভিনেত্রী মাধবী

মাধবী, দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই নামকরা অভিনেত্রী একাধারে তেলুগু, কন্নড়, মালয়ালম, তামিল এবং হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন। দীর্ঘ ফিল্মি ক্যারিয়ারে তিনি প্রায় ৩০০টিরও বেশি ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গিয়েছেন। তবে একজন অভিনেত্রী হিসেবে তার স্বপ্ন ছিল বলিউডে নিজের পরিচিতি গড়ে তোলা। কিন্তু তা আর হয়ে ওঠেনি। যে কারণে পরবর্তী দিনে অভিনয় ছেড়ে দেবার সিদ্ধান্ত নেন মাধবী।

দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির এই পরিচিত মুখ তৎকালীন সময়ে চিরঞ্জীবী, রজনীকান্তের সঙ্গে বহু সুপারহিট ছবিতে অভিনয় করেছেন। দক্ষিণের থালাইভা রজনীকান্ত তো তাকে নিজের সৌভাগ্য বলে মনে করতেন। কারণ মাধবীর সঙ্গে জুটি বেঁধে তিনি যে কয়টি ছবি করেছেন, সবগুলিই বক্সঅফিসে চূড়ান্ত সফল হয়েছে। তবে তিনি এখন ক্যারিয়ারের শীর্ষে শিখরে অবস্থান করছিলেন তখনই গুরুর কথা মেনে রাতারাতি ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি।

সাউথ ইন্ডিয়ান ছবির পাশাপাশি বলিউডেরও প্রথম সারির অভিনেত্রী হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে বারংবার পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে করতে ক্রমশ তিনি নিজের নামের পাশে বি-গ্রেড অভিনেত্রীর ট্যাগ লাগিয়ে ফেলেন। তিনি বুঝতে পারছিলেন বলিউডে কাজ করা তার পক্ষে সম্ভব হবে না। বলিউডে পসার জমাতে ব্যর্থ হয়ে যখন তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন তখন তার বন্ধু রজনীকান্ত তাকে নিজের বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

সেই গুরু সঙ্গে দেখা করে গুরুর একটি কথাতেই ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে দেন মাধবী। সেই গুরু তার আমেরিকা নিবাসী ব্যবসায়ী শিষ্যের সঙ্গে মাধবীর আলাপ করিয়ে দেন এবং তার সঙ্গেই তাকে বিয়ে করতে বলেন। গুরু স্বামী রামা কথা মেনে আমেরিকা নিবাসী ব্যবসায়ী র‌্যাফ শর্মাকে বিয়ে করে আমেরিকাতেই সেটেল হয়ে যান তিনি। বর্তমানে দুই কন্যা এবং স্বামীকে নিয়ে সেখানেই সুখের সংসার করছেন তিনি। বিগত ৩০ বছরের মধ্যে আর ভারতে ফিরে আসা হয়ে ওঠেনি মাধবীর। ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে তার সংযোগ বিচ্ছিন্ন। একমাত্র রজনীকান্তের সঙ্গেই তার যোগাযোগ রয়েছে।

কেরিয়ারের প্রথম ভাগে সবচেয়ে বেশি ছবি তিনি করেছিলেন চিরঞ্জীবীর সঙ্গে। এমনকি তাঁর শেষ তেলুগু ছবি ‘বিগ বস’-এও চিরঞ্জীবী ছিলেন।

তেলুগু পরিচালক দাসারি নারায়ণ রাও তাঁকে খুব কম বয়সেই একটি ছবির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ‘থুরুপু পাদামারা’ নামে ওই ছবি সুপারহিট হয়েছিল।

১৯৬২ সালে হায়দরাবাদে জন্ম মাধবীর। হায়দরাবাদের স্ট্যানলে গার্লস হাই স্কুলে পড়াশোনা তাঁর। ছোট বয়স থেকেই ভারতনাট্যমে প্রশিক্ষিত।

নিজের জনপ্রিয়তা বিসর্জন দিয়ে আধ্যাত্মিকতায় মন দিয়েছিলেন। তার পর বিয়ে করে সংসারধর্ম পালন করে চলেছেন।