জেনে নিন ভীষ্মের উপদেশের মূল বাণী কী ছিল

62
জেনে নিন ভীষ্মের উপদেশের মূল বাণী কী ছিল

মহাভারতের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র পিতামহ ভীষ্ম। মহাভারতের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র ধৃতরাষ্ট্র, দুর্যোধন, কৃষ্ণ, অর্জুন ও যুধিষ্ঠিরকে তিনি ধর্ম-অধর্মের অনেক বাণী শুনিয়েছিলেন। শরশয্যায় শায়িত পিতামহ ভীষ্ম যুধিষ্ঠির ও সকলকে রাজনীতি, নীতি, জীবন ও ধর্মের উপদেশ দিয়ে যান। ভীষ্মের উপদেশের মূল বাণী কী ছিল আজকের প্রতিবেদনে তাই জেনে নেব –

১. ভীষ্ম বলেছিলেন অন্যের ভালো লাগে এমন কথা বল। অন্যকে আঘাত দিয়ে কোনো খারাপ কথা বলা, অন্যের নিন্দা করা, কটূ বচন বলা, এ সব ত্যাগ করাই শ্রেয়। অন্যের অপমান করা, অহংকার ও দম্ভ, এটি অবগুণ।

২. ত্যাগ ছাড়া কোনো কিছু লাভ করা যায় না, পরম আদর্শের সিদ্ধি হয় না, ব্যক্তি ভয়মুক্ত হয় না। তাই ত্যাগের সাহায্যে ব্যক্তি সমস্ত ধরনের সুখ লাভ করে।

৩. দু’ধরনের মানুষ সুখ ভোগ করে থাকে। এক, যে সবচেয়ে বেশি বোকা ও দ্বিতীয়, যাঁরা বুদ্ধির প্রকাশে তত্বকে দেখে নিয়েছে। যাঁরা মাঝখানে রয়েছেন, তাঁরা দুঃখী থাকেন।

৪. যে পুরুষের নিজের ভবিষ্যতের ওপর অধিকার আছে, যাঁরা সময় অনুযায়ী তৎক্ষণাৎ বিচার করতে পারে এবং তার প্রতি আচরণ করতে পারে, সেই পুরুষই সুখ লাভ করে। আলস্য ব্যক্তিকে ধ্বংস করে দেয়।

৫. সনাতন কালে যখনই কেউ স্ত্রীর অপমান করেছে, তাঁদের বিনাশ অবশ্যই হয়েছে। ভীষ্মের মতে, যে ঘরে স্ত্রী প্রসন্ন থাকে, সে ঘরে লক্ষ্মীর বাস হয়। যে বাড়িতে স্ত্রীর সম্মান হয় না, তাঁকে কষ্ট দেওয়া হয়, সেখান থেকে লক্ষ্মী-সহ অন্য দেবী-দেবতাও চলে যান। ভীষ্ম যুধিষ্ঠিরকে জানান, স্ত্রীর প্রথম সুখ তাঁর সম্মান।

৬. আবার শরশয্যায় শায়িত ভীষ্ম, যুধিষ্ঠিরকে এ-ও জানান যে, নদী তীব্রগতিতে সমুদ্র পর্যন্ত পৌঁছলে বড় বড় গাছকেও নিজের সঙ্গে নিয়ে যায়। সমুদ্র একদা নদীকে জিজ্ঞেস করে যে, তোমার জল প্রবাহ এত তীব্র ও শক্তিশালী কেন, যে সেটি বড়সড় গাছকেও নিজের সঙ্গে ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং ছোট ঘাস, কোমল বেল ও নরম চারাগাছকে নিয়ে যেতে পারে না? নদী বলে, যখন আমার জলের স্রোত আসে, তখন বেল, ঘাস, চারাগাছ নিজে থেকেই ঝুঁকে যায়। কিন্তু নিজের কঠোর স্বভাবের কারণে বড় গাছ এমন করতে পারে না, তাই আমার প্রবাহ তাকে উৎপাটিত করে ফেলে।

৭. মহাভারতের যুদ্ধের আগে কৃষ্ণ সন্ধির প্রস্তাব নিয়ে হস্তিনাপুর এলে ভীষ্ম দুর্বুদ্ধি দুর্যোধনকে জানান, “যেখানে কৃষ্ণ, সেখানেই ধর্ম। সেই পক্ষই জয় লাভ করবে। তাই পুত্র দুর্যোধন! কৃষ্ণের সাহায্যে পাণ্ডবদের সঙ্গে সন্ধি করে নাও। সন্ধির ভালো সুযোগ পেয়েছ তুমি। ব্যক্তিকে সর্বদা ধর্মের পক্ষে থাকা উচিত।”

৮. কৃষ্ণের মতো ভীষ্মও বলেছিলেন যে, পরিবর্তনই সংসারের অটল নিয়ম এবং সকলকে তা স্বীকার করতেই হয়। কারণ একে পাল্টানো যায় না।

৯. পিতামহ ভীষ্ম এ-ও জানান যে, এক জন শাসককে নিজের পুত্র ও প্রজার মধ্যে কোনও ভেদাভেদ করা উচিত নয়। এমন শাসন অটল ও প্রজাকে সমৃদ্ধি প্রদান করে।

১০. ভীষ্ম বলেছিলেন, শাসনক্ষমতা সুখ ভোগ করার জন্য নয়, বরং কঠিন পরিশ্রম করে সমাজের কল্যাণ করার জন্য।