জেনে নিন ইউরিক অ্যাসিড জনিত সমস্যায় কি করনীয়

25
জেনে নিন ইউরিক অ্যাসিড জনিত সমস্যায় কি করনীয়

হাই ব্লাড সুগার এবং হাই প্রেসার এর পাশাপাশি আমরা অনেকেই ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়া সমস্যায় ভুগছি। ইউরিক অ্যাসিড উচ্চমাত্রায় বেড়ে গেলে আমাদের শরীরে ব্যথা এবং যন্ত্রণার মতো একাধিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সহ বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে থাকে। ইউরিক অ্যাসিড জমা হলে অস্থিসন্ধি গুলি ফুলে যায় এবং ব্যথা হতে থাকে। সাধারণত আমাদের প্রতিদিনের অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং অনিয়ন্ত্রিত জীবন যাত্রার কারণে আমাদের শরীরে ইউরিক এসিডের পরিমাণ অত্যাধিক বেড়ে যায়।

এছাড়া কোন কোন মানুষের জিনগত সমস্যা থেকে থাকে। উচ্চমাত্রায় চিনি খেলে ইউরিক অ্যাসিড বৃদ্ধির হার বাড়তে পারে। দেহে উচ্চমাত্রায় ইউরিক এসিডের উপস্থিত থাকলে আমাদের উচ্চ রক্তচাপ, অস্থি সন্ধিতে ব্যথা, কিডনির সমস্যা সহ নানা রকমের অসুখ দেখা যায়।

মূত্রের মাধ্যমে আমাদের শরীর থেকে যে পরিমাণ ইউরিক অ্যাসিড বেরিয়ে যায়, তার থেকে অনেক বেশি পরিমাণ যখন আমাদের শরীরে তৈরি হয়ে যায় ইউরিক অ্যাসিড, তখনই আস্তে আস্তে সমস্যা দেখা যায়। তবে যদি আমরা একটু সচেতন ও তার সাথে জীবন যাপন অতিবাহিত করতে পারি, তাহলে আমাদের জীবনে ইউরিক অ্যাসিড কে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। আমাদের ঘরে তাই এমন কিছু জিনিস রয়েছে যা থেকে আমরা খুব সহজে পেতে পারি ইউরিক অ্যাসিড থেকে মুক্তি।

১) বাড়িতে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার কিনুন। 1 চা চামচ ভিনেগার নিয়ে পাগলা জলের মধ্যে মিশিয়ে পান করে ফেলুন।দিনের মধ্যে যদি দুই থেকে তিনবার এই মিশ্রন পান করতে পারেন তাহলে অ্যাপেল সিডার ভিনিগার আপনার শরীর থেকে সমস্ত দূষিত পদার্থ বের করে দিয়ে আপনাকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে। বিশুদ্ধ আপেল সিডার ভিনেগার তৈরি হয় ম্যালিক অ্যাসিড দিয়ে, যা ইউরিক এসিডের ক্রিস্টালগুলো কে ভেঙে দেয় এবং তাদের আপনার শরীরে জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। তাছাড়া প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার জল খেতে পারলে আপনার শরীরে ইউরিক অ্যাসিড জমা হতে পারে না।

উচ্চ প্রোটিনযুক্ত খাবার যেমন মাছ মাংস, মুসুরির ডাল, বেশকিছু সবুজ শাকসবজি এড়িয়ে চলতে পারলে আপনার ইউরিক অ্যাসিড একেবারেই নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এছাড়া বর্জন করতে হবে লাল মাংস, লাল মদ এবং বিশেষত সামুদ্রিক মাছ।

২) অ্যাসপিরিন জাতীয় ওষুধ থেকে যদি আপনি দূরে থাকতে পারেন, তাহলে আপনার ইউরিক আসিড অনেকটাই কমে যাবে। ভিটামিন সি যুক্ত ফল খাবার অভ্যাস করুন।

৩) নিয়মিত শরীরচর্চা করলে ইউরিক অ্যাসিড একেবারেই নিয়ন্ত্রণে থাকে। এর জন্য আপনি বেছে নিতে পারেন প্রত্যেকদিন প্রাতঃভ্রমণ অথবা সাঁতার। ওজন কোনভাবেই বাড়তে দেবে না। রক্তচাপ থাকলে ইউরিক এসিড বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এখন থেকেই নিজের শরীরের প্রতি যত্নশীল হবার চেষ্টা করুন।

৪) বাজারে পাওয়া কোমল পানীয়, জুস অথবা লস্যি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়। এর ফলে আপনার শরীরে সমস্যা দেখা যেতে পারে।

৫) চা এর বদলে কফি খাওয়ার অভ্যাস করুন। প্রতিদিন তিন থেকে চার কাপ যদি কালো কফি খেতে পারেন, তাহলে আপনার শরীর ভালো থাকবে।