জেনে নিন বার্ড ফ্লু সংক্রমণে কি উপসর্গ দেখা দেয় এবং এর থেকে বাঁচার উপায় কি?

15
জেনে নিন বার্ড ফ্লু সংক্রমণে কি উপসর্গ দেখা দেয় এবং এর থেকে বাঁচার উপায় কি?

করোনার কবলে পড়ে বিশ্ববাসী নাজেহাল হয়ে পড়েছে। এর মঝেই শুরু হয়েছে বার্ড ফ্লু এর সংক্রমণ। এই ভাইরাসটির ব্যাপারে আমরা সকলেই জানি। বার্ড ফ্লু এর সংক্রমণ পাখির থেকেই ছড়ায়। পশুপাখিদের মৃত্যু হয় এই বার্ড ফ্লু এর কারনে।

বার্ড ফ্লু বা অ্যাভিয়েঞ্জা ইনফ্লুয়েঞ্জা কি?
বার্ড ফ্লু হল বিশেষ ধরনের ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসঘটিত রোগ। এই ভাইরাসের ফলে মুরগি, পাখিরা সংক্রমিত হয়। ভারতবর্ষে সর্বপ্রথম ২০০৪ সালে এই বার্ড ফ্লুর উদ্ভব ঘটেছিল। এরপর থেকে আমাদের দেশে মোট ২৪ বার এই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। এবার ভারতে যা এইচ৫এন১ প্রজাতির ফ্লু ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। বার্ড ফ্লু এর প্রকোপ কত ভয়ংকর হবে তা নির্ভর করে প্রজাতির উপর।

মানুষ কী বার্ড-ফ্লুতে সংক্রমিত হতে পারে? বার্ড ফ্লু পাখিদের থেকে মানুষের মধ্যে ছড়াতে পারে। মানুষের বার্ড ফ্লু হলে মৃত্যু হওয়ার সম্ভাবনা পর্যন্ত থাকে। যে সমস্ত মানুষ মুরগির খামারের ব্যবসায় যুক্ত থাকেন বা যাঁরা সংক্রমিত ও মৃত পাখির সরাসরি সংস্পর্শে আসেন, তাঁদের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। হু এর তরফ থেকে জানানো হয়েছে যে এই বার্ড ফ্লু এর সংক্রমণ একজন মানুষের থেকে অপর মানুষের দেহে ছড়ানোর সম্ভাবনা অত্যন্ত কম। এখনো পর্যন্ত ভারতে বার্ড ফ্লু হয়েছে এমন রোগীর সংখ্যা মেলেনি।

মানুষের শরীরে বার্ড-ফ্লুর সংক্রমণ ঘটলে তার লক্ষণ কী?

বিশেষজ্ঞদের মতে মানুষের শরীরে বার্ড ফ্লু এর সংক্রমণ ঘটলে জ্বর, কাশি, পেশিতে ব্যথা, গলাব্যথা, খাবারে অরুচির মতো কিছু উপসর্গ দেখা দিতে পারে। তবে সংক্রমণ যদি গুরুতর হয় তাহলে কাশি, জ্বর খুবই বাড়তে পারে এমনকি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিকলাঙ্গ পর্যন্ত হয়ে যেতে পারে। অনেক সময় ফুসফুসে সংক্রমণের কারণে মারাত্মক নিউমোনিয়া পর্যন্ত হতে পারে। এরফলে অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ডিস্ট্রেসের সম্ভাবনা থাকে এরসঙ্গে সেপসিস ও মাল্টিঅরগ্যান ফেলিওরের সম্ভাবনাও থাকে।

প্রতিরোধ কিভাবে সম্ভব?
অন্যান্য ফ্লু এর মতো বার্ড ফ্লু এর সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অবশ্যই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। খাওয়ার আগে ভালো করে সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। মাংস বা ডিম খুব ভাল করে সেদ্ধ করে খান। কাঁচা মাংস ভালো করে ধোবার পর হাত ভালো করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। মাংস ধোয়ার সময় কাছাকাছি যেন কোনও খাবার না থাকে, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

ডিয় বা মাংস কীভাবে খাওয়া যাবে?
WHO বলেছে সঠিক উপায়ে মুরগির মাংস বা ডিম রান্না করা গেলে খাওয়া অবশ্যই যায়। রান্নার সময় আগুনের তাপমাত্রা ৭০ ডিগ্রি বা তার বেশী হওয়া চাই। সেই তাপমাত্রায় ভাইরাস মরে যায়। দ্বিতীয়ত, মাংস রান্না করার আগে অবশ্যই ধুয়ে নিতে হবে। তৃতীয়ত, বাজার থেকে কাটা মুরগির না কেনাই শ্রেয়। চতুর্থত, পোল্ট্রির মাংসে হাত দেবার পর গরম জলে অন্তত ২০ মিনিট ধরে পরিস্কার করে হাত ধুয়ে তারপর রান্নার সামগ্রীতে হাত দেওয়া যাবে।