আজ জানুন নদীয়ার ১০৮টি শিব মন্দির সমৃদ্ধ শিবনিবাস সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

11
আজ জানুন নদীয়ার ১০৮টি শিব মন্দির সমৃদ্ধ শিবনিবাস সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

শিবনিবাস, রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের আমলে পশ্চিমবঙ্গে নদীয়া জেলায় অবস্থিত এই প্রাচীন শিব মন্দিরটির খ্যাতি রয়েছে সারা বাংলা জুড়ে। নদীয়া জেলায় অবস্থিত ১০৮টি শিব মন্দির সমৃদ্ধ এই শিবনিবাস “বাংলার কাশী” হিসেবেই মর্যাদা পেয়েছে। গঙ্গার বদলে বাংলার এই কাশীর পাশ দিয়ে বয়ে চলেছে চূর্ণী নদী। কথিত আছে, মহারাজা কৃষ্ণচন্দ্র মহাদেবের স্বপ্নাদেশ পেয়েই নদীয়াতে ১০৮টি শিব মন্দির গড়ে তুলেছিলেন।

শুধু তাই নয়, মহাদেবকে সন্তুষ্ট করতেই শিবনিবাসে নতুন রাজধানীও স্থাপন করেছিলেন কৃষ্ণচন্দ্র। তবে এই শিব নিবাসকে কেন্দ্র করে ভিন্ন মতও রয়েছে ইতিহাসবিদদের মধ্যে। একদল ইতিহাসবিদের মতে, আঠারো শতকের মাঝামাঝি সময়ে মারাঠাদের আক্রমণের হাত থেকে রাজধানী কৃষ্ণনগরকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যেই চূর্ণী নদীর জলে ঘেরা শিবনিবাসে রাজধানী স্থানান্তরিত করেন কৃষ্ণচন্দ্র।

আবার অনেকে মনে করেন কৃষ্ণচন্দ্র তার পুত্র শিবচন্দ্রের নাম অনুসারেই এই জায়গাটির নামকরণ করেন শিবনিবাস। উল্লেখ্য শিবনিবাসের শিব মন্দির গুলিতে আশ্চর্য কারুকার্য রয়েছে। ঢালু ছাদ এবং গম্বুজ মন্দিরের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। তার সঙ্গেই মন্দিরের কাঠামোতে স্থান পেয়েছে পোড়ামাটির কাজ এবং ইসলামিক ও গথিক কাজ।

এখানকার সবথেকে বড় শিব মন্দিরটির উচ্চতা প্রায় ১২০ ফুট। এই মন্দিরটি বুড়ো শিবের মন্দির হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এছাড়াও রয়েছে রাজ রাজেশ্বর মন্দির, রগনিশ্বর মন্দির, রাম-সীতা মন্দির। তবে বর্তমানে এই ইতিহাস প্রসিদ্ধ শিবনিবাসে কেবল তিনটি মন্দির অক্ষত অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। বাকি সব কটিই আজ ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে।