আজ জানুন জটেশ্বর শিব মন্দির সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

13
আজ জানুন জটেশ্বর শিব মন্দির সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য

জটেশ্বর নামটা শুনে যেন মনে হচ্ছে যেন এই নামের পিছনের লুকিয়ে রয়েছে নানান ইতিহাস। জটেশ্বর নামটা শুনলেই মনে হয় যেন শিব ঠাকুরের মন্দির আসলে বাস্তবেই হলো সেটি শিব ঠাকুরের মন্দির। এটি আলিপুরদুয়ারের ফালাকাটা ব্লকের পুরনো গ্রাম। জটেশ্বর অন্যান্য গ্রামের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত এই গ্রামটিতে রয়েছে একটি পুরনো শিব মন্দির। সেই মন্দিরের উপর ভরসা করেন সেখানকার মানুষজন।

ওই মন্দিরটিকে সকলেই জটেশ্বর শিব মন্দির বলে থাকেন। এই মন্দিরটা পিছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস। মন্দিরের ইতিহাস খুঁজতে বেরোনো হলো তখন পাওয়া গেল অনেক তথ্য ৩৯০ বছর আগে তৈরি হয়েছিল এবং সময়ের সাথে সাথে অনেক পরিবর্তন করা হয়েছে মন্দির কাঠামো অনেক নজর দিয়ে আরও উন্নত তৈরি করা হয়েছে। ওই মন্দিরের পাশে আরো রয়েছে দুটি মন্দির একটি রাধাকৃষ্ণ আর জগন্নাথ দেবের।

এই মন্দির সম্পর্কে যখন ওই গ্রামের বয়স্ক দের কাছে জিজ্ঞাসা করা হল তখন তাদের মারফত জানা গেল যে বাংলা মাসের ১২৩৩ সনে করা হয়েছিল। এই মন্দিরটিকে এবং এর পিছনে রয়েছে অনেক ইতিহাস। জটেশ্বর এর দক্ষিনে আরেকটি গ্রাম রয়েছে সেটার নাম হলো কাঠালবাড়ি এবং তার পূর্ব দিকে রয়েছে হেদায়েতনগর। জানা গেছে যে এই গ্রামে থাকতো জন্য ক্ষমতাশালী জোরদার এবং তার নাম ছিল বেদেং ধ্বনি। একদিন ১২৩৩ সালের একটি সময়ে শনিবার দিন গ্রামবাসী লক্ষ্য করল যে একটা গাভীর বাট থেকে দুধ পড়ে যাচ্ছে এবং তারা যখন ওই গাভীটির সামনে গেলেন তখন যেন বিশ্বাসই করতে পারলেন না।

তারা দেখলেন যে, একটি পাথর মাটি ভেদ করে উপরে উঠছে, পাথরটির ওপরই গাভীর দুধ পরছে। ঘটনাটি দেখার পরে গ্রামবাসীদের মনে একটা ভয় এর জায়গা তৈরি হয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই সেইসময়ের মানুষেরা অনেক ভীতু ছিল। এরপর যখন এই সমস্ত ঘটনাটি বেদেং ধ্বনির কাছে পৌঁছায় তখন তিনি এই খবরটি পাঠান বিশ্বস্ত হরেন রায় এবং শচীন রায়ের কাছে পাথরটিকে বাড়িতে নিয়ে আসার জন্য। পাথরটি প্রায় দেখতে ছিল ১০ থেকে ১২ ইঞ্চি লম্বা এবং ১৪ থেকে ১৫ ইঞ্চি ছিল গোল। পাথরটিকে নিয়ে আসার সময় দেখা গেল যেখানে আজকে ওই মন্দিরটি রয়েছে সেই জায়গাতেই এসে যখনই পাথরটিকে খাঁচা থেকে বের করা হচ্ছিল সেই সময় সেই পাথরটিকে কিছুতেই বের করা যাচ্ছিল না, এরপর দুটি হাতি কে আনা হলে খাঁচা সহ পাথরটিকে বাড়ি আনার জন্য, কিন্তু কিছুতেই সেই কাজ হলো না অবশেষে ওইখানেই ভাষাটিকে রেখে তারা চলে গিয়েছিল।

ঐখানে একটি ঘর বানিয়ে পাথরটিকে রাখা হয়েছিল এবং সংগ্রামের সকলে সেখানে ধুপ ধুনো দিয়ে পুজো দিত। তারপরে একদিন একটি উলঙ্গ সাধু সেখানে হাজির হলেন গ্রামের সকলেই কাথেয়াবাবা বলে ডাকতেন। উনি অনেক দিন ধরে পূজো করেছিলেন কিন্তু একসময় তিনি সকলের অজান্তেই কোথায় চলে গেলেন। তারপর যখন পুজো কেউ দিত না তখনই হঠাৎ করে মিথিলা থেকে এলো একজন পুরোহিত এলো, সেই পুরোহিতই গ্রামের সকলকে বলেন যে তার কাছে স্বপ্নাদেশ এসেছে এবং এই ঠাকুরকে যেন নিয়মিত পুজো করা হয়। এরপর থেকেই পুজো এখনো পর্যন্ত চলে আসছে এবং দিন যত যায় ততই শিবলিঙ্গটি উচ্চতা বেড়ে যায়। শিব চতুর্দশীর সময় মন্দিরে প্রচুর ভিড় হয়। মন্দিরের বয়স প্রায় ৩৯০ বছর।