জেনে নিন নারদ জয়ন্তী সম্পর্কে কিছু অজানা কথা এবং তা পালনের বিধি

15
জেনে নিন নারদ জয়ন্তী সম্পর্কে কিছু অজানা কথা এবং তা পালনের বিধি

নারায়ন নারায়ন, কথাটি কিন্তু একমাত্র বলতেন মহর্ষি নারদ। এক কথায় বলা ভালো, দেবকুলের মধ্যে যত রকম অশান্তি হতো, তার বেশিরভাগ হত মহর্ষি নারদের জন্য। তবে নারদ কে কিন্তু খুবই ভালবাসতেন সকল দেবী এবং দেবতা। আজ নারদ জয়ন্তী। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই নারদ জয়ন্তী উপলক্ষে দেবকুলের অন্তর্গত এই ঋষিকে কখনো পুজো করা হয় না।

কিন্তু কেন? রহস্য লুকিয়ে রয়েছে নারদ এর জন্মকথা তে। প্রজাপতি ব্রহ্মার কন্ঠ থেকে জন্ম নিয়েছিলেন মহর্ষি নারদ। জন্ম থেকেই তিনি ছিলেন সঙ্গীতজ্ঞ। নারদ কে ব্রম্ভা সৃষ্টি রক্ষার দায়িত্ব চেয়েছিলেন। কিন্তু বৈষয়িক ব্যাপারে যদি তিনি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েন, তাহলে ঈশ্বরের নাম গানে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এই যুক্তিতে নারদ সেই প্রস্তাব ব্রম্ভা কে ফিরিয়ে দেন।

ভীষণভাবে অপমানিত হয়ে ব্রহ্মা তখন মহর্ষি নারদ কে অভিশাপ দেন যে, সংগীতের প্রতি টানে নারদকে গন্ধর্ব যোনিতে জন্ম নিতে হবে। উপবর্হন নামে গন্ধর্ব হয়ে নারদ এর জন্ম হয়েছিল। কিন্তু একদা স্বর্গ সভায় রম্ভার নাচ দেখে তার বীর্য স্খলন হলে আরো একবার ব্রহ্মা তাকে অভিশাপ দেন। কামনা সংযত না করতে পারার অপরাধে তাকে মানুষ হিসাবে জন্মগ্রহণ করতে হয়েছিল।

শ্রীমৎ ভগবত বলে, এই জন্মে নারদ আবির্ভূত হয়েছিলেন এক দাসীর গর্ভে। কলাবতী নামে ওই নারী ঋষিদের সেবা করতেন। একদিন আকাশপথে অপ্সরা ম্যানকাকে দেখে ঋষি কশ্যপের বীর্যপাত হয়। সেটি কলাবতী পান করলে জন্ম হয় নারদের। নারদ জন্ম নেবার পর তার পিতা কোন দায়িত্ব নেননি তার। মায়ের ও একদিন মৃত্যু হয়।

নারদ তখন অন্যান্য ঋষিদের পায়ে পায়ে ঘুরতেন। তাদের দেওয়া এঁটো খেতেন নারদ। বলা হয় যে সেই খাবার ছিল নাকি বিষ্ণুর নিবেদন করা প্রসাদ। সেই প্রসাদের সাথে অভিভূত হয়ে নারদ বিষ্ণুর নাম গান করতে আরম্ভ করেন। এই কারণে মহর্ষি নারদের জন্মতিথিতে উপাসনা করা হয় ভগবান বিষ্ণুর। এই ব্রত উদযাপন করা একেবারেই জটিল নয়।

নারদ পূজার পদ্ধতি কেউ জানতেন না। শুধুমাত্র নাম গান এবং পুষ্পোদ্যান এই পাওয়া যায় বিষ্ণুর কৃপা, এমনটাই মনে করতেন তিনি। পঞ্জিকা মতে, ব্রত উদযাপন শুরু হবে সকাল থেকে, তবে পুণ্য মুহূর্ত পড়বে সকাল ১১টা ৫০ মিনিট থেকে দুপুর ১২টা ৫০ মিনিট এবং দুপুর ২টো ৪২ মিনিট থেকে বিকেল ৪টে ০৭ মিনিটে। এই দুই সময়ের যে কোনও একটিতে অথবা দুই লগ্নেই বিষ্ণুকে অর্ঘ্য অর্পণ করা যায়। সঙ্গে বিষ্ণুসহস্রনাম পাঠ বা শ্রবণ অবশ্য কর্তব্য।

ব্রত উদযাপন পদ্ধতি এবং বিধিনিষেধ ১. যাঁরা ব্রত উদযাপন করতে চান, তাঁদের সকালে স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরতে হবে। ২. দিনটিতে উপবাস রক্ষা করতে হবে। ব্যর্থ হলে দুধ এবং ফলাহার বিধেয়; শস্যদানাজাতীয় খাদ্য গ্রহণ করা চলবে না। ৩. পুণ্য লগ্নে চন্দন, তুলসী, ফুল, কুমুকুম, ধূপ, দীপ এবং মিষ্টান্নভোগে ভগবানের আরাধনা করতে হবে। ৪. বিষ্ণুসহস্রনাম স্তোত্র পাঠ বা শ্রবণ করতে হবে। ৫. বিরত থাকতে হবে আমিষ ভোজন এবং মদ্যপানে। ৬. কাউকে কটূ কথা বলা যাবে না।