বহুতল বিল্ডিংয়ে ফিল্মি কায়দায় চুরি! ধন্ধে পুলিশও

7
বহুতল বিল্ডিংয়ে ফিল্মি কায়দায় চুরি! ধন্ধে পুলিশও

চোর চুরি করছে তাও আবার ফিল্মি কায়দায়। তিনটি বহুতল বিল্ডিংয়ে চুরি সব মিলিয়ে চারটি ফ্ল্যাটে তালা চাবি ভেঙে লক্ষাধিক টাকা এবং লক্ষ লক্ষ টাকার গয়না নিয়ে পলাতক চোর। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

শ্রীরামপুর থানার অন্তর্গত শ্রীরামপুর পুরসভার ২৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত সুভাষনগর হাউজিং কমপ্লেক্সে তিনটি বিল্ডিংয়ের চারটি ফ্ল্যাটে চুরি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে চোরেরা লক্ষাধিক টাকা এবং গয়না নিয়ে পালিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ফ্ল্যাটের বাড়ির মালিকরা তাঁদের পুরো পরিবার নিয়ে কোনও কাজে বাইরে গিয়েছিলেন। সিসিটিভিতে খানিকটা হলেও ধরা পড়েছে এই কীর্তি। চোরদের যাতে শনাক্ত করা যায় তার জন্য পুলিশ ফ্ল্যাটের বাইরে লাগানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পরীক্ষা করছে। এহেন ঘটনায় হাউজিং কমপ্লেক্সের অন্যান্য বাসিন্দারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

পুলিশ মনে করছে এ কোনো দক্ষ হাতের কাজ। ভোররাতের দিকেই চুরির ঘটনাটি ঘটেছে বলে মনে করা হচ্ছে। ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে চোরেরা ঘরে ঢুকেছে। তারপর লোহার আলমারির তালা ভেঙে তাতে রাখা নগদ টাকা ও সোনার গয়না নিয়ে পালিয়ে যায় চোরেরা। চুরিটি হয়েছে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে, তালা ভাঙার শব্দ কেউ শুনতে পায়নি।

এই ঘটনা প্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা প্রভা মেহতা নামে এক বৃদ্ধ মহিলা জানান যে তিনি ২৩ বছর ধরে এখানে বসবাস করছেন। এমন ঘটনা এর আগে কখনও দেখেননি তিনি। এক্ষেত্রে একের পর এক ফ্ল্যাটে পরিকল্পিত ভাবে ডাকাতি হয়েছে।

বাড়িতে চুরি হয়েছে এমন একজন রঞ্জিতকুমার আর্য। তাঁর কথায়, তিনি তাঁর পুরো পরিবার নিয়ে বিধাননগরে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন। সকালে তিনি খবর পান তাঁর ফ্ল্যাটের তালা ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে পালিয়েছে চোরেরা। তিনি মনে করছেন, তারা যে বাড়িতে নেই এমন তথ্য কেউ চোরদের দিয়েছে।

তাঁর আরও অভিযোগ, এমন একজন তথ্যদাতা আমাদের সবার মাঝেই থাকতেন এবং ফ্ল্যাটের বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির তথ্য চোরদের কাছে শেয়ার করেছিলেন। তারপর একের পর এক পরিকল্পিতভাবে চুরির ঘটনা ঘটে। তিনি দাবি করেন, পুলিশের উচিত যত দ্রুত সম্ভব দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া এবং চোরদের খুঁজে বের করা।

তিনি জানান, এই কমপ্লেক্সে মোট ২৮টি ভবন রয়েছে। একটি ভবনে ২৪ থেকে ২৮টি ফ্ল্যাট রয়েছে। এখানে হাজার হাজার মানুষের বসবাস। কমপ্লেক্সের মেইন গেটে নিরাপত্তা প্রহরী থাকা সত্ত্বেও এ চুরির ঘটনায় কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

এদিকে শুধু শ্রীরামপুর নয়, কয়েক দিন আগে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের উত্তরপাড়া থানার রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকার একটি হাউজিং কমপ্লেক্সে একই রকম চুরির ঘটনা ঘটেছে বলেও খবর আছে।

রবিবার রিষড়া স্টেশন সংলগ্ন চার নম্বর রেলগেট সংলগ্ন হাউজিং কমপ্লেক্সে আবারও চুরি। এই ঘটনার সাথে ওই ঘটনার কোনো সম্পর্ক আছে কি না পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। পুলিশ বিষয়টি কঠিন হাতে তদন্তও করছে। এখন সিসিটিভি ফুটেজ থেকে আদৌ কোনও তথ্য পাওয়া যায় কিনা সেটাই দেখার।