ব্যবহার করা অন্তর্বাস মাটির ভিতরে পূতে দিচ্ছে চাষিরা! কিন্তু কেন? জানুন কারন

53
ব্যবহার করা অন্তর্বাস মাটির ভিতরে পূতে দিচ্ছে চাষিরা! কিন্তু কেন? জানুন কারন

বিজ্ঞানসম্মত মতে, আমাদের সুতির অন্তর্বাস পরা প্রচন্ড প্রয়োজন। অন্তর্বাস সঠিকভাবে কেচে শুকোতে দেওয়া উচিত রোদ্দুরে। প্রতিদিন ব্যবহার করা অন্তর্বাস দ্বিতীয়বার ব্যাবহার না করার কথাই বলেন চিকিৎসকরা। তবে এসব কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু পুরনো ব্যবহার করা সুতির অন্তর্বাস মাটিতে পুঁতে দেবার কথা বোধ হয় আমরা কেউ জানিনা। এ রকমই একটি অভিযান চালাচ্ছে আমেরিকা ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার মানুষ।

শুধুমাত্র চাষিরা নয় স্কুল পড়ুয়ারা পুরনো নতুন এমনকি ব্যবহার করা অন্তর্বাস পূতে দিচ্ছে মাটির ভিতরে। ব্যাপারটা আসলে কি একটু খোলসা করে বলা যাক। নিউ সাউথ ওয়েলসের স্কুল অফ ইনভারমেন্টাল এন্ড রুরাল সাইন্সের বিজ্ঞানী অলিভার নকশা এবং অস্ট্রেলিয়ার কটন ইন্ডাস্ট্রি গবেষকরা এই নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেছেন যে, নতুন অথবা ব্যবহার করা অন্তর্বাস, যেটি হতে হবে একেবারে সুতির, সেটি যদি মাটির ভেতরে পুঁতে দেওয়া যায় তাহলে সেলুলোজ এর পরিমাণ বাড়ে।

আমরা অনেকেই হয়তো জানি না সুতির উপাদান হলো সেলুলোজ। তাই সুতির অন্তর্বাস মাটিতে মিশে গেলে উপকারী মাইক্রোবাসের পুষ্টিকর খাবারের যোগান দেয়। এই মাইক্রোবাসরা এই খাবার পেয়ে খুশি হয়ে মাটির পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ কয়েক গুণ বাড়িয়ে তোলে। ফলে মাটি আরো বেশি সুজলা সুফলা হয়ে ওঠে। মাইক্রোঅরগানিজম বলতে বোঝানো হয় যে, মাটিতে বসবাসকারী সমস্ত রকম ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক ইত্যাদি। মাটির জৈবিক উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী এরা।

বিজ্ঞানীরা মনে করেন যে, মাটিতে কম করে হলেও ১৫ রকম ব্যাকটেরিয়া ছত্রাক এমনকি সন্ধিপদী প্রাণী বাস করে। এরাই মাটির প্রানশক্তি ধরে রাখে। সর্ষের ভালো ফসলের জন্য পুষ্টি উপাদান যোগান দেয় এরা। কিন্তু এখন বিভিন্ন জীবাণু এবং ছত্রাক দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই মাটি তার নিজস্বতা হারাচ্ছে। গবেষক অলিভার এই প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে, মাটিতে জৈব উপাদানের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য আমাদের মাথায় নতুন একটি বুদ্ধি এসেছিল। এই নতুন অভিনব ব্যাপারটি সকলকে আকর্ষণ করতে পেরেছে।

চাষীরা তাদের ব্যবহার করা সুতির অন্তর্বাস সহজে পুঁতে দিতে পারছেন মাটিতে। অস্ট্রেলিয়াতে রীতিমতো ক্যাম্পেইন করে এই অভিযান শুরু হয়ে গেছে। চাষীদের উৎসাহ বাড়ানোর জন্য এগিয়ে এসেছে স্কুল পড়ুয়ারা। এই অভিযানের মাধ্যমে তাদের বোঝানো হয়েছে যে, পায়ের তলায় মাটি রয়েছে তা আমারে জীবনীশক্তি। এই মাটি আমাদের আশ্রয় দিচ্ছে খাবার দিচ্ছে। কাজেই শস্যের মধ্যে ঢুকে যাওয়া রাসায়নিক আমাদের শরীরে ঢুকে যাওয় আটকাতে হবে আমাদেরকে। তাই এটিকে নিয়ে হাসি-ঠাট্টা না করে বিজ্ঞানসম্মত ভাবে কি করে মাটি কে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করতে হবে আমাদের।