ঠিক কি কারনে ইজরায়েলে নারী সেনারা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না

42
ঠিক কি কারনে ইজরায়েলে নারী সেনারা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে না

ইজরায়েলে নারীদের ঠিকমতো সম্মান দেওয়া হয়না চিরকালই। কিন্তু ইজরায়েলের যখন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তখন বাধ্যতামূলকভাবে সৈন্যদলের নিয়োগ করানো হতো নারীদের। প্রথম আরব- ইসরাইল যুদ্ধের সময় নারীরা সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন সেই যুদ্ধে। এরপর তাদের থেকে সেই সুযোগ করে দেওয়া হয়। নারীদের শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত এবং প্রশাসনিক পদে নিয়োগ করতে শুরু করে ইজরাইল সরকার।

যখন নারীরা ইজরায়েল সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, তখন তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ একসাথে করতে পারতেন। তারা ক্যাডার হতে পারতেন, তারা রান্না করতে পারতেন, সামরিক বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে কাজও করতে পারতেন, গোয়েন্দা নজরদারি চালাতে পারতেন, সৈন্যদের পড়াশুনা এবং শারীরিক প্রশিক্ষণের জন্য তারা দায়িত্বশীল হতে পারতেন, অন্যদের রাষ্ট্রপরিচালনায় প্রশিক্ষক হতে পারতেন, নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো পর্যবেক্ষণ করতে পারতেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাজ করতে পারতেন।

সময়ের সাথে সাথে ঈশ্রায়েলি নারীবাদীরা শুধুমাত্র নিজের অধিকারের জন্য নয় দায়বদ্ধতার জন্য লড়াই করে যাচ্ছেন বারবার। তারা বহুবার ইজরায়েল ডিফেন্স ফোর্স এর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। পুরুষেরা যে দায়িত্ব পালন করতে পারেন এমন পরে নারীরাও যোগ দেওয়ার দাবিতে তারা বারবার সোচ্চার হয়ে উঠেছিলেন। অবশেষে ফলস্বরুপ নারীদের বিমান চালক এবং ট্যাংকার হিসাবে যোগ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এসমস্ত ইউনিটগুলোতে সৈন্যদের এক-তৃতীয়াংশ পুরুষ এবং বাকি সবাই নারী ছিলেন। সেনাবাহিনীতে নারীদের ভূমিকা অনন্য সংবাদমাধ্যম কিংবা স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের কাছে অতিরঞ্জিত করে প্রকাশ পায়। এই সমস্ত আলোচনা চিরকাল লিঙ্গ সমতা দেখানোর জন্য বেশি পরিমাণে ব্যবহার করা হয়।

তখন সেই সময়ে যে ইউনিটগুলোতে নারী থাকতেন, সেখানে পুরুষদের কিংবা নারীদের এক সঙ্গে বিছানায় সোয়া নিষিদ্ধ ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল যে কোন রকমের সংগতি রোধ করা। কিন্তু এরপরেও ১৮ থেকে ২০ বছরের তরুণরা সেনাবাহিনীতে প্রবেশ করেছেন। এমন সুযোগ পেয়ে তরুণ-তরুণীরা খুব খুশি হতেন। কিন্তু কোন ধরনের শৃঙ্খলা না থাকার কারণে তরুণ-তরুণীদের মেলামেশা অবাধে চলত।

তবে আইডিএফ মনে করতেন যে, যুদ্ধ ইউনিটের নারীদের ভর্তি এবং নারীদের মধ্যে সামরিক সরঞ্জাম গ্রহণের কাজে গাফিলতি রয়েছে। যদি একজন নারীকে পদাতিক সদস্য বা ট্যাংকার হিসেবে নিয়োগ করানো হয়, তাহলে শারীরিক গঠনের কারণে দুর্বলতম পুরুষ সৈনিক এর চেয়েও কম কাজ করতে পারবে একজন নারী এমনই মত পোষণ করতেন আইডিএফ। নারীরা বেশি পরিমাণে গোলাবারুদ বহন করতে পারবেন না, খুব দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়বেন, বেশি পরিমাণে চোট পাবেন, তার শরীরের কাটা ছেড়ার ঠিক করতে আরো অনেক সময় লেগে যাবে। যুদ্ধক্ষেত্রে একজন শক্তিশালী মানুষ অনেক সময় ক্লান্ত হয়ে পড়েন, সেই কাজ কখনো একজন নারীর পক্ষে সম্ভব হয় না। তাই সেই সময় থেকেই যুদ্ধ অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে নারীদের নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়।